শিশুর ডায়রিয়া অবহেলা নয়

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ১২:৪৬ এএম

শিশুদের ডায়রিয়া সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে এটি মারাত্মক হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দিলে। তাই ডায়রিয়ার লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা থাকা ভালো।

লক্ষণ

ঘন ঘন পাতলা পায়খানা (দিনে তিনবারের বেশি) পেটে ব্যথা, মোচড়ানো বা অস্বস্তিবমি বমি ভাব বা বমিপেট ফাঁপা ও গ্যাসক্ষুধামান্দ্যজ্বর ও শরীরে ঠান্ডা লাগা

পানিশূন্যতার লক্ষণগুলোও খেয়াল রাখা জরুরি

অত্যধিক তৃষ্ণাপ্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ামুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়াচোখ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াকান্নার সময় চোখে জল না আসাদুর্বলতা ও ঝিমুনি

কারণ : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে শিশুদের ডায়রিয়া হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে জীবাণু প্রবেশ করে।

চিকিৎসা : ডায়রিয়ার প্রধান চিকিৎসা হলো শরীরে পানির অভাব পূরণ করা। এর জন্য যা করতে হবে।

ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা খাবার স্যালাইন : এটি ডায়রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর শিশুকে বয়স অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

তরল খাবার : স্যালাইনের পাশাপাশি শিশুকে ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, পাতলা ডালের পানি, লবণ-গুড়ের শরবত, টক দইয়ের মতো তরল খাবার বেশি করে দিন।

বুকের দুধ : যদি শিশু বুকের দুধ পান করে, তাহলে তাকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে থাকুন।

জিংক : ডায়রিয়ার তীব্রতা ও সময় কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত জিংক ট্যাবলেট খাওয়াতে পারেন।

সহজপাচ্য খাবার : ডায়রিয়া চলাকালীন শিশুকে নরম ও সহজে হজমযোগ্য খাবার দিন। খিচুড়ি, মুরগির মাংসের স্যুপ, কলা ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন : যদি শিশুর ডায়রিয়া ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা যায়, মলে রক্ত আসে বা খুব বেশি বমি হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তিন মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর (>৩৮ক্কঈ) হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

প্রতিরোধ : শিশুদের ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত

শিশুকে পরিষ্কার-পরিছন্ন পরিবেশে রাখা।জীবাণুমুক্ত পানি পান করানো।খাবার ভালোভাবে ঢেকে রাখা ও তাজা খাবার খাওয়ানো।

শিশুদের রোটাভাইরাস টিকার মাধ্যমে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মনে রাখবেন, শিশুদের ডায়রিয়া হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পরিচর্যা ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে শিশুরা সাধারণত দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত