দেশের তিনটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৮১২ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ জনকে তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের দুদকে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তারা হননি। শেখ হাসিনার পর এবার তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ান সিদ্দিককে ফ্ল্যাট ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। তাকে আগামী ১৪ মে সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্যমতে, গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সরদার মোশাররফ টিউলিপকেওহোসেন। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৭ মে টিউলিপের ঢাকার ধানমন্ডি ও গুলশান-২ এর বাসার ঠিকানায় নোটিস পাঠান। একই মামলার অপর দুই আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সরদার মোশাররফ হোসেনের নামেও নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে তাদের আগামী ১৪ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে গুলশানে ১ বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী ৯৯ বছরের মধ্যে ওই প্লট হস্তান্তর বা বিক্রি নিষিদ্ধ। বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর ১৯৭৩ সালে মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়াকে প্লটটির আমমোক্তার নিয়োগ করেন। এরপর প্লটটি ভাগ করে বিক্রি করা হয় এবং ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে প্লটে ভবন নির্মাণ শুরু হয়। জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের মধ্যে বিরোধ শুরু হলে মামলা হয়। মামলার চলমান অবস্থায় এবং হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় রাজউকের তৎকালীন আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেন, যা অবৈধ ছিল। কারণ কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি ছিল না। রাজউকের রেকর্ড অনুযায়ী ৯৯ বছরের ইজারার শর্তে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে প্লট হস্তান্তর করার সুযোগ নেই। তারপরও ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার দিয়ে ওই প্লট ভাগ করে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন টিউলিপ সিদ্দিক। এর বিনিময়ে অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট নেন। প্রভাব খাটিয়ে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার নিয়োগ ও ফ্ল্যাট বিক্রয়ের অনুমোদনের ব্যবস্থা করে নিজে অবৈধ সুবিধা নিয়ে বিনামূল্যে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এদিকে, রাজউকের পূবার্চল ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১০ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারে সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দিয়েছে দুদক। একটি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিককে আসামি করা হয়েছে।
