শেকৃবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের হাতাহাতি, ক্যাম্পাসে রাতভর উত্তেজনা

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ১২:৩৪ পিএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদে জড়িয়েছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ছাত্রদলের দুই গ্রুপ। প্রথমে হাতাহাতি পরবর্তীতে পটকা ফুটিয়ে ক্যাম্পাসে আতংক সৃষ্টি করা হয়। শুক্রবার (৯ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স ক্লাবে ছাত্রদলের এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শক সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন শিক্ষকরা। কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. তারিফুল ইসলাম তারিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনসহ তাদের অনুসারীরা। অনুষ্ঠান বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। 

এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যদের সাথে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরেন তারা। একপর্যায়ে ক্রেস্ট ও চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ তাদের অনুসারীরা। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ক্রিকেট নেট প্র্যাকটিসের পাশে অবস্থান নেয়।

এ ঘটনার পর রাত সোয়া ৯টার মিছিল বের করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ। মিছিলটি খেলার মাঠ সংলগ্ন সেকেন্ড গেটের দিকে আসলে ছাত্রদলের অবস্থান নেওয়া অপর গ্রুপের পাশ থেকে পরপর কয়েকটি পটকা ফোটানো হয়। বিকট শব্দে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এ সময় তাদের কাছে কিছু লাঠি দেখা যায়। 
এমতাবস্থায় মিছিলটি সেকেন্ড দিয়ে বাহিরে চলে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের অন্য গ্রুপের নেওয়া অবস্থানের পাশেই অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও কুটুক্তি করতে থাকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ।

কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা চলে গেলে মিছিল বের করে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রুপ।

ছাত্রদলের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন যারা রাজপথে শ্রম দিছে তাদের বাদ দিয়ে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রোগ্রাম করতেছে সেটা জানতে পেরে দলের স্বার্থে আমরা সেখানে যাই। এতে সভাপতি-সেক্রেটারি আমাদের বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। 

প্রায় ৩ বছর হয়ে গেলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি, প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই এই ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। 

আর ছাত্রদল সভাপতি আহমেদুল কবির তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবাইকে ইনফর্ম করেই আমাদের পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল এটি। কেউ ফোন ধরে না ম্যাসেজ সিন করে না, এ জন্য প্রেস আকারেও দিছি যাতে সবাই জানে। তারপরও তারা এসে আমাদের পুরস্কার ভাঙচুর করলো, আমাদের মিছিলে আক্রমণ করলো। দল এখন একটা অবস্থানে যাচ্ছে তাই তারা চাচ্ছে ক্যাম্পাসে একটা অবস্থান নিবে আসলে ৫ তারিখের আগে কারা কারা ছিল এটা সবাই জানে।

এবিষয়ে শেকৃবি প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত মাঠে থেকে থামানোর চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত