আগামী ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও চবির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবারের সমাবর্তনে সবচেয়ে বড় চমক হলেন প্রধান উপদেষ্টা নিজেই। এমনটাই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে সমাবর্তনের সার্বিক বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন চবি রেজিস্ট্রার।
চবি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষক ছিলেন ড. ইউনূস। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে চবির অর্থনীতি বিভাগ বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। চবিতে অধ্যাপনাকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের মাঝে তিনি মাইক্রো ফাইন্যান্সের ধারণাটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তার এই অদম্য ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টার কারণে মাইক্রো ফাইনান্সের ধারণাটি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। আমি নিজে শিক্ষক হিসেবে তাকে পাইনি। তবে যারাই অধ্যাপক ড. ইউনূসের সান্নিধ্যে ছিলেন তাদের জ্ঞানের গভীরতা ছিল অতুলনীয়। তার ছাত্ররা আজ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অবদান রেখে চলেছেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। আশা করি এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’
তিনি আরও বলেন , ‘চবির একজন সাবেক শিক্ষক হলেও অধ্যাপক ড. ইউনূসকে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যথাযথ সম্মাননা দেওয়া হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তার উপর চলেছে বিচারিক অত্যাচার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.মুহাম্মদ ইউনূস ভবন নামে একটা ভবন আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে আমরা দেখেছি ভবনটির নাম পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নানা অপচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।’
ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে আমরা সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ করেছি। যদি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা তাকে অন্তত কিছুটা হলেও সম্মানিত করতে পারি তবে সেটাই আমাদের সার্থকতা। কেননা তিনি একজন বিশ্ব মানের ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তার জ্ঞান দক্ষতার মাধ্যমে উপকৃত হলেও বাংলাদেশ তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদার জায়গাটি দিতে পারেনি। আমরা চাই তিনি বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাবেন।’
