আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় শিক্ষার্থীরা একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান এবং সেখানে থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও বটতলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন আয়ান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রজনতা আজ আনন্দিত। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন এই দলের শাসনে দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয়করণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দমন ঘটেছে, যার ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দলের আমলে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে দলীয় দখলদারিত্ব এবং মুক্তচিন্তার জায়গাগুলোর সংকোচন বেড়ে গিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার ফলে শিক্ষাঙ্গনে আবারও একটি শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক ও পাঠকেন্দ্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুদ্ধ হতে পারে এবং নতুন নেতৃত্ব ও চিন্তাধারা সামনে আসার পথ খুলে যেতে পারে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল যেন ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা দমননীতির আশ্রয় না নেয়। আমাদের চাওয়া এমন একটি রাজনীতি, যেখানে গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা আপাতত খুশি, তবে এটি চূড়ান্ত কোনো আনন্দ নয়। আমরা সত্যিকারের সন্তুষ্টি পাব সেদিন, যেদিন আওয়ামী লীগ একটি স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ হবে। যদিও ৫ আগস্টের পর জনতার রায়ে এই দল নিষিদ্ধ হয়েছে বলেই আমরা মনে করি, তবুও আমরা ২০১৩ সালের শাহবাগের মতো কোনো ফ্যাসিস্ট নজির দেখতে চাই না। আমরা চাই, একটি সুষ্ঠু ও বৈধ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হোক। এ বিষয়ে ইন্টারিম সরকারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই, যারা এই আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। একইসঙ্গে আমরা ‘জুলাই প্রোক্লেমেশন’ এর ঘোষণাপত্রও দাবি করছি। ইন্টারিম সরকার যে ৩০ দিনের সময় নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের জন্যও আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
অসংখ্য ভুল বানানে হার্ভার্ডকে ট্রাম্পের শিক্ষামন্ত্রীর চিঠি
অবৈধ অভিবাসীদের ওপর নজরদারি জোরদার করল ট্রাম্প প্রশাসন