নিয়ন্ত্রণ নেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে, নির্লিপ্ত হাইওয়ে পুলিশ

আপডেট : ১২ মে ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশ যেন অনিয়ন্ত্রিত। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা, ঘনঘন দীর্ঘ যানজট, ডাকাতি, ছিনতাই, নির্বিঘ্নে থ্রি হুইলার চলাচল করলেও নির্লিপ্ত হাইওয়ে পুলিশ। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন মহাসড়কে শুধু গতি নিয়ন্ত্রণের নামে মামলা বাণিজ্য করাই কি হাইওয়ে পুলিশের কাজ?

সরেজমিনে গজারিয়া অংশের মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কজুড়ে থ্রি-হুইলার (সিএনজি, রিকশা, অটোরিকশা) নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। একাধিক স্ট্যান্ডে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছে; কিন্তু কোথাও হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ বক্স থাকলে সেখানে এখন ভবঘুর আর রাতে নেশাখোরদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা, আবর্জনার স্তূপ। বালুয়াকান্দী, ভাটেরচর, ভবেরচর, দড়ি বাউশিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করে রাখা। এর আশেপাশে কোথাও তাদের দেখা না গেলেও, দেখা মিললো গোমতী ব্রিজের পূর্ব পাড়ে বাউশিয়া পাঁখি পয়েন্ট এলাকায়।

সেখানে একটি গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য। গাড়ির দিকে স্পিড গান তাক করে একের পর এক গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে থামাচ্ছে। তবে এ সময় সামনে দিয়ে কয়েকটি সিএনজি, অটোরিকশা যেতে দেখা গেলেও সেগুলো থামানোর ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। থামানো গাড়িগুলোতে নিজেদের স্বার্থ আদায় না হলেই দেওয়া হচ্ছে মামলা। 

স্থানীয় ট্যাক্সি ড্রাইভার আমির হোসেন আক্ষেপের সুরে বলেন, কি যে বলবো ভাই, বলার ভাষা নাই। সারাদিন কিছু পুলিশ এখানে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে থামিয়ে টাকা আদায় করে। টাকা দিলে ছেড়ে দেয় আর যারা টাকা না দেয় তাদের মামলা দিয়ে দেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল বলেন, পুলিশের অন্যতম একটা ইউনিট হাইওয়ে পুলিশ। তাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে মহাসড়কের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও তারা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করে। মোট কথা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে হাইওয়ে পুলিশের অন্যতম কাজ; কিন্তু মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণে মামলা দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজে দেখছি না।

কুমিল্লা থেকে আসা পিকআপ ভ্যান ড্রাইভার আলী হোসেন জানান, প্রতিদিনই তারা এই একই স্থানে অবস্থান করেন, টাকা দিলে আর মামলা হয় না।

স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি চলে এই মহাসড়কে। এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বিশের অধিক। এছাড়া ঘনঘন যানজটে মানুষের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মত; একাধিক ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে, কিন্তু হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে নাই। বাধ্য হয়ে মানুষ থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

ভবেরচর সমিতি মার্কেটের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, অবাধে তিন চাকার যানবাহন যেমন সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের কোনো তৎপরতা নেই। তারা চব্বিশ ঘণ্টা শুধু পাখির মোড়ে একটা স্পিড গান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আমরা এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চাই।

ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি শওকত হোসেন বলেন, অযথা কাউকে হয়রানি করা হয় না। ওভারস্পিডে যারা গাড়ি চালাচ্ছে, শুধু তাদেরকেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। 

হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর রিজিওনের পুলিশ সুপার (এডিশনাল ডিআইজি) ড. আ ক ম আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত