বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে টানা ২৯ দিন ধরে চলমান আন্দোলনে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে পরীক্ষা চললেও ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে প্রশাসনিক শাটডাউন থাকায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্লাসরুম ফাঁকা, পরীক্ষার জন্য কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের
স্বাভাবিক চলাচল অনুপস্থিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, মেডিকেল সেন্টার ও পরিবহন সেবা চালু রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় তারা বাধ্য হয়ে ‘ব্লকেড কর্মসূচি’ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিন খান বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে, দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়া হবে।’
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘উপাচার্যের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউই ভালো নেই। এই ফ্যাসিস্ট আচরণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছি।’
