চীনা উপকূলকে লক্ষ্য করতে সক্ষম তাইওয়ানের নতুন অস্ত্র

আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ১০:১০ এএম

গতকাল সোমবার তাইওয়ান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া উন্নত রকেট সিস্টেমের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই রকেট সিস্টেম ভবিষ্যতে চীনের ওপর পাল্টা হামলার সক্ষমতা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে এবং সেই দাবি প্রতিষ্ঠায় সামরিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েক দফা সামরিক মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ানকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করেছে বেইজিং।

এমন পরিস্থিতিতে তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি লকহিড মার্টিনের ২৯টি উচ্চ গতিসম্পন্ন মোবাইল আর্টিলারি রকেট সিস্টেম কিনেছে (এইচআইএমএআরএস)। এর মধ্যে গত বছর প্রথম দফায় ১১টি রকেট সিস্টেম হাতে পেয়েছে তারা। বাকি রকেটগুলো আগামী বছরের মধ্যে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে।

এই এইচআইএমএআরএস রকেট সিস্টেম প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে যুদ্ধে প্রয়োগ করা হলে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে আঘাত হানতে পারবে তাইওয়ান। ফুজিয়ান প্রদেশটি তাইওয়ান প্রণালীর অপর পাশে অবস্থিত।

এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠিত হয়েছে তাইওয়ানের জিউপেং পরীক্ষাকেন্দ্রে, যা দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের একটি দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সেখানে তাইওয়ানের মার্কিন-প্রশিক্ষিত সেনা দল এই রকেট নিক্ষেপ করেন।

এই উপলক্ষে তাইওয়ানের সেনা কর্মকর্তা হো সিয়াং-ই সাংবাদিকদের বলেন, উৎক্ষেপণের সময় রকেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের (লকহিড মার্টিন) মার্কিন কর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যাতে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘এই রকেট উৎক্ষেপণ আমাদের জনগণের কাছে প্রমাণ করেছে যে, আমাদের সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এই সুন্দর মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত।’

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধেও এইচআইএমএআরএস একটি প্রধান আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া জানায়, তারা ইতোমধ্যে ৪২টি এইচআইএমএআরএস লঞ্চার যানবাহনের মধ্যে প্রথম দুটি পেয়েছে।

তাইওয়ানের এই রকেট উৎক্ষেপণ এমন এক সময় ঘটল, যখন চীনের সামরিক বাহিনী দ্বীপটির আশপাশে আবারও যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়ায় যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ অংশ নেয় বলে জানায় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার চীনের এই ভূখণ্ড দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে এসেছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ কেবল এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত