লক্ষীপুরে আল মঈন ইসলামী একাডেমীর শিক্ষককের নির্যাতনে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছামিন হোসেন (৭) মৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহত শিক্ষার্থী ছামিন হোসেনের বাবা হুমায়ুন মাতাব্বর বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বসির আহমেদসহ তিনজনের নাম উল্লেখ আরো ৫জনকে অজ্ঞাত আসা, করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মোন্নাফ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ছামিন হোসেন মৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আটক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসা থেকে ৭ বছরের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি জানার পর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিতে ভিড় করেন মাদ্রাসার সামনে। অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্তানদের নিতে দেখাও গেছে।
অপরদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বসির আহমদ বলেন, ছামিন হিফজ বিভাগে পড়তো। তবে তাকে শাসন করতে বুধবার সকালে কয়েকটি বেত দেওয়া হয়। সে টয়লেটের ভেতর গিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে নির্যাতনে মারা যায়নি।
শিক্ষার্থীর মা জয়নব ও বাবা হুমায়ুন মাতাব্বর অভিযোগ করে বলেন, ছামিন আত্মহত্যা করেনি। তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষক মাহমুদুর রহমানসহ অন্যরা তাকে বেদম মারধর করে হত্যা করে। ৭ বছর বয়সের বাচ্চা আত্মহত্যা করবে, এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলার চরবংশীর কুছিয়া এলাকার হতদরিদ্র হুমায়ুন মাতাব্বর এর ছেলে ছানিম হোসেন। ২০২৩ সালে আল মঈন ইসলামী একাডেমী মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করে পরিবার। এরপর মাদ্রাসায় থেকে লেখাপড়া করে আসছে ছানিম। পড়ালেখার সময় কারণে-অকারণে প্রায়ই শিক্ষক মাহমুদুর রহমানসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা বসির আহমেদকে জানিয়েও কোন সুরাহ হয়নি। এর জের ধরে বুধবার সকালে পড়া মুখস্ত করতে না পারায় শিক্ষক মাহমুদর রহমান শিক্ষার্থী ছানিম হোসেনকে বেদম মারধর করে। পরে তাকে মারধর করার বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার মা জয়নবকে জানায় ছানিম। এরপর বিকেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছানিমের মায়ের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, তার ছেলে ছানিম গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
ফোন চুরির সন্দেহে কিশোরকে বস্তাবন্দী করে ফেলা হলো নদীতে
রূপপুর প্রকল্পের আরও ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত