মানবিক করিডর নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট চায় বাম জোট

আপডেট : ১৬ মে ২০২৫, ০৬:৪৩ এএম

রাখাইন ইস্যুতে মানবিক করিডর এবং চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন বাম জোটের নেতারা। তারা বলছেন, রাখাইনে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে, যা জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সাঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে তারা বলেন, এসব সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারকে পাশ কাটিয়ে যদি বাংলাদেশের মাধ্যমে করিডর খোলা হয়, তাহলে তারা নিশ্চুপ থাকবে না। তারা সেখানে আক্রমণ চালাবে। তখন চীন, ভারত, আমেরিকার খেলা শুরু হয়ে যাবে। এই খেলায় যদি আমাদের দেশ জড়িয়ে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গাজার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আমরা মানবিক সাহায্যের বিপক্ষে নই। কিন্তু মানবিক করিডরের নামে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলতে পারি না।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, যখন কোনো দেশে সাহায্য পাঠানোর জন্য অন্য কোনো উপায় থাকে না, তখন স্থলপথে করিডর ব্যবহারের বিষয়টি আসে। কিন্তু আমরা জানি, সমুদ্রপথে মিয়ানমারের রাখাইনে দুটি বন্দর রয়েছে একটি চীন নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যটি ভারত। এই দুটি বন্দর থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডর করতে হবে? সাগরপথেও তো যাওয়া যায়। আমরা এই করিডর দেওয়ার বিপক্ষে। দেশের জনগণ এই করিডর মেনে নেবে না।

বামজোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। এ সময় বামজোটের কেন্দ্রীয় নেতারও উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত