শ্বশুরের থেকে মোবাইল কেনার টাকা না আনায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০১:১৫ এএম

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মোবাইল ফোন কেনার জন্য বাবার কাছ থেকে টাকা এনে না দেওয়ায় স্বামীর নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন আয়েশা খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী হাফিজুর রহমান (২৫) ও তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান (৩২)–কে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের আড়ংগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব সরদার সাংবাদিকদের জানান, নিহত আয়েশা খাতুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের আক্তার মল্লিকের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় আড়ংগাছা গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তাদের দাম্পত্য জীবনে আজমির হোসেন নামে ১৪ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

নিহতের মা আমেনা খাতুন (৩৯) অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার জামাই হাফিজুর মোবাইল কেনার জন্য আয়েশাকে দিয়ে তার কাছে চার হাজার টাকা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই আয়েশাকে গালাগাল ও খুনের হুমকি দিতে থাকে হাফিজুর।

রাত সোয়া ২টার দিকে হাফিজুর মোবাইল ফোনে আমেনাকে জানায়, আয়েশা শয়নকক্ষের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ভোর ৫টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি মেয়েকে মৃত অবস্থায় খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান আমেনা খাতুন।

পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আয়েশার স্বামী হাফিজুর ও তার ভাই হাবিবুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে হাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত