হাতে-পায়ে ধরেও টাকা পাচ্ছে না পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারীরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০৬:১১ পিএম

তিল তিল করে জমানো টাকা ব্যাংকে আমান রেখে প্রতারিত হয়েছেন অনেকে। তাদের মতে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ভেবে ব্যাংকে আমানত রেখেছেন তারা। কিন্তু বিগত সরকারের ছত্রছায়ায় একটি চক্র দেশের ব্যাংকিং খাতকে লুটের রাজ্যে পরিণত করেছে। আমানতকারীদের লাখ লাখ কোটি টাকা লুট করেছে। দিশেহারা আমানতকারীরা ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সমাধান পাচ্ছেন না। অনেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের হাতে পায়ে ধরেও টাকা তুলতে পারছেন না। এসব ব্যাংকের মধ্যে অন্যতমহলো পদ্মা ব্যাংক।

শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যাংকটির আমানকারীরা অর্থ ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমাসহ রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা; অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট বাতিল এবং সম্পদ জব্দের নির্দেশনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারী মো. ফয়সাল, মিরাজুর রহমান, মো. ইব্রাহিম, জুয়েলা আক্তার ও মার্জিয়া আক্তার।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, এখানে শুধুমাত্র আমাদের দুঃখ-কষ্ট জানাতে আসিনি, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যাংকিং দুর্নীতির বিষয় জনসম্মুখে উন্মোচন করতে করতে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে- সুপরিকল্পিত আর্থিক কেলেঙ্কারির হোতাদের প্রকাশ্যে আনা। যারা দুই লাখ আমানতকারীর সঞ্চয়, পেনশন এবং ব্যাবসায়িক অর্থ লুট করে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। 

ইব্রাহিম বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর, কীভাবে তারেক রেজা খান পদ্মা ব্যাংক থেকে পদত্যাগের পর, ব্যাংক ত্যাগের জন্য অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন এবং এখনো ব্যাংকিং খাতে সক্রিয় রয়েছেন? আরও উদ্বেগজনক হলো- তার সাথে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ সহযোগীরাও বিভিন্ন ব্যাংকে দায়িত্বে রয়েছেন, যেন কিছুই ঘটেনি। এটি শুধু বিচারহীনতার একটি উদাহরণ নয়, বরং বাংলাদেশের আর্থিক খাতের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রতি চরম অবহেলার প্রতিচ্ছবি। আমরা জানতে চাই- কে বা কারা এইসব দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে? এ ধরনের অপরাধীদের প্রতি শিথিলতা যদি চলতে থাকে, তাহলে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা কোনদিন ফিরবে না।

মার্জিয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করে পদ্মা ব্যাংকে আমান রেখেছেন। কিন্তু এখন মা গুরুতর অসুস্থ, কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। চর এই বিপদের সময় বাবার হাতে টাকা নেই। মায়ে চিকিৎসা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকে টাকা থাকলেও মাসের পর মাস নিজেদের টাকা তুলতে পারছিনা। ব্রাঞ্চ কর্মকর্তারা আজ, কাল, পরশু বলে সময়ক্ষেপণ করছেন। পর্যায়ক্রমে পদ্মা ব্যাংকে প্রতারিত অনেক ভুক্তভোগীদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। এখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, এর সমাধান চাই। আমাদের আমানত ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক পদ্মা ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে, তাদেরকে দায়ভার নিতে হবে। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্যারকে বলবো, আমার মাকে বাঁচান, আমাদের টাকা ফেরত দিন।

জুয়েলা আক্তারেরও প্রায় একই বক্তব্য। তিনি বলেন, তিল তিল করে জোগাড় করা টাকা ব্যাংকে রেখেছি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিরাপদ মনে করে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন, এখন আমরা টাকা পাচ্ছিনা। বলা হয়- বিপদের বন্ধু সঞ্চয়। আর আমরা যখন বিপদে তখন সঞ্চয় তুলতে পারছিনা। এর থেকে যন্ত্রণা আর কিছু হতে পারেনা। অনেক সময় ব্যাংকে টাকার জন্য গেলে কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। ধমক দিয়ে বের করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কার কাছে যাবে, কার কাছে সমাধান চাইব। দেশে কি আমাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই! 

বক্তব্যে মো. ফয়সাল ও মিরাজুর রহমান বলেছেন, ব্যবসার টাকা ব্যাংকে রেখ এখন আমরা পথের ভিখারী। কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পাচ্ছি না। ব্যাংকের শাখা অফিস, প্রধান অফিস ও বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েও সমাধান পাচ্ছি না। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত