জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে ২৯ রান দরকার ছিল আরব আমিরাতের। শরীফুল ইসলাম ১৯তম ওভারে ১ উইকেট নিলেও ১৭ রান দেওয়ায় শেষ ওভারে ১২ রান দরকার পড়ে স্বাগতিকদের।
শেষ ওভার তানজিম সাকিব ওয়াইড দিয়ে শুরুর পর দ্বিতীয় বলে ছক্কা হজম করায় সমীকরণটা দাঁড়ায় ৪ বলে ৪ রান। পরের বলেই উইকেট নেন তানজিম। চতুর্থ বলে আসে ১ রান। কিন্তু পঞ্চম বলটি তানজিম ব্যাটসম্যানের বুকসমান উচ্চতায় করলে হয় ‘নো’। পরের বলে দৌড়েই ২ রান নিয়ে আমিরাতকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি খেলতে নামা হায়দার (৬ বলে ১৫*)।
দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আমিরাতের দুই ব্যাটসম্যান যেমন দ্বিধায় ভুগেছেন, তেমনি ফিল্ডার তাওহীদ হৃদয় দেরি করেছেন থ্রো করতে। সময়মতো থ্রোটা করতে পারলে রান আউটও হতে পারতেন হায়দার।
টি–টোয়েন্টিতে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের বিপক্ষে সহযোগী কোনো দেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করা জয় এখন এটিই। আমিরাতের এই জয়ে সিরিজে এখন ১–১ সমতা। বিসিবির অনুরোধে এই সিরিজে আরও একটি ম্যাচ সংযুক্ত করা না হলে সিরিজ জয়ের শেষ সুযোগটাও পেত না বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচের মতো শারজাতেই বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।
২০৬ রানের স্বস্তি নিয়ে বল করতে নেমে টি–টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত নাহিদ রানা নিজের প্রথম ওভারেই দেন ১৮! নিজের দ্বিতীয় ওভারে দেন ১৪ রান। শরীফুল, রিশাদ ও তানজিমদের বাজে বলেও রান তুলেছেন আমিরাতের দুই ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম ও মোহাম্মদ জোহাইব।
জোহাইবকে ১১তম ওভারে বাহাতি স্পিনার তানভীর ফিরিয়ে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরেছিল বাংলাদেশ। রিশাদ পরের ওভারে রাহুল চোপড়াকে ফেরান। ১৪তম ওভারে তানজিম ২০ রান দেওয়ায় জয়ের জন্য শেষ ৬ ওভারে ৬০ রান দরকার পড়ে আমিরাতের।
পরের ওভারে শরীফুল মাত্র ৩ রান দিয়ে ডেন্জারম্যান ওয়াসিমকে (৮২) তুলে নেওয়ার পর কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এর আগে ওয়াসিমের ক্যাচ ছাড়ার মতো ১৬তম ওভারে সগীর খানের ক্যাচ তিনজন মিলে ছেড়ে দেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। না হলে অন্যরকম হতে পারতো ফলাফল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ২০৫/৫ (তানজিদ ৫৯, লিটন ৪০, নাজমুল ২৭, হৃদয় ৪৫, জাকের ১৮, শামীম ৬*, রিশাদ ২*; জাওয়াদউল্লা ৩/৪৫, সগীর ২/৩৬)।
আরব আমিরাত: ১৯.৫ ওভারে ২০৬/৮ (ওয়াসিম ৮২, জোহাইব ৩৮, আসিফ ১৯, আলিশান ১৩, হায়দার ১৫*; রিশাদ ২/২৮, শরীফুল ২/৩৪, নাহিদ ২/৫০, তানভীর ১/৩৭, তানজিম ১/৫৫)।
ফল: আরব আমিরাত ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ ওয়াসিম।
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১–১–এ সমতা।
২৪ ম্যাচ পর দুইশো করলো বাংলাদেশ, আমিরাতের লক্ষ্য ২০৬