ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিমি যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই সড়কের যাত্রী ও চালকরা। স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহন চালক ও হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, একদিকে সরু মহাসড়ক ও অন্যদিকে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরে বড় আকারের গর্ত ও মোড়ের অব্যস্থাপনাকে কেন্দ্র করে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। 

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কে চলমান চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ ধীরগতিতে চলছে ছয় বছর ধরে। মহাসড়কের এক পাশের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এই সরু একপাশ দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।

এরইমধ্যে মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরের চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গত রোববার (১৮ মে) রাত থেকে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন মহাসড়কের গোলচত্বর এলাকায় এসে সড়কের দুরবস্থার জন্য ১ থেকে ৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে হচ্ছে। ফলে মহাসড়কের এই অংশে যানজটের সূত্রপাত হলেও ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত হয়ে তা মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পরে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের ফলে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, পাশাপাশি মাঝেমধ্যে এসব গর্তে অনেক যানবাহন বিকল হয়ে সড়কেই আটকে যাচ্ছে। এ সকল কারণে যানজট বিস্তৃত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর মোড় থেকে সরাইল উপজেলার বেড়তলা, বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া, ইসলামাবাদ ও বাড়িউড়া বাজার পার হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত পৌঁছেছে। যানজটে নাকাল হয়ে শত শত নারী-পুরুষকে হেঁটে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

সরাইলের বাসিন্দা শাহার আলী জানান, রোববার দিবাগত রাত ২টা থেকে বিশ্বরোড মোড় থেকে যানজট সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে যানজট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল উপজেলার বেড়তলা, বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত কয়েকবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানজট ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার যানবাহনের হাজারো নারী-পুরুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চালক সোহাগ মিয়া বলেন, মহাসড়কের অন্য অংশে তেমন একটা অসুবিধা না হলেও বিশ্বরোড মোড়ে এসে যানজটে পরতে হয়। মোড়ের আশপাশে ছোট-বড় বিভিন্ন গর্তের কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়। পুরো রাস্তায় যে সময় লাগে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে বিশ্বরোড মোড় পার হতে। আমরা আছি মহাবিপদে। ঈদুল আজহার আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ হতে পারে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবে আশা রাখি।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মামুন রহমান বলেন, বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারপাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনগুলোকে মহাসড়কে ৭০ কিলোমিটার বেগে এসে এখানে চলতে হচ্ছে ১ থেকে ৫ কিলোমিটার গতিতে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবুও মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত