স্বাস্থ্যখাতে টেকসই অর্থায়নে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা দেশের নিজস্ব বাজেট থেকে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো ও অর্থায়নের নতুন পথ খোঁজার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা বলেছেন, বর্তমানে কমনওয়েলথভুক্ত অনেক দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে। এই অবস্থায় যৌথভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করাটা খুব জরুরি।
জেনেভায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার (২০ মে) বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান। ‘দ্য কমনওয়েলথ’ এর জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই বিবৃতি পাঠানো হয়। গত ১৭ মে জেনেভায় ৭৮তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমনওয়েলথভুক্ত ২৭০ কোটি মানুষের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টেকসই অর্থায়নের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করা হয়।
এটি ছিল কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের ৩৭তম বৈঠক। বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলো একসাথে কাজ করার নতুন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে কমনওয়েলথভুক্ত অনেক দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে। এই অবস্থায় যৌথভাবে কাজ করার পথ খুঁজে বের করাটা খুব জরুরি বলে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা আরও বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেন ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয় সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। যেসব দেশ উন্নয়ন সহযোগিতা কমে যাওয়ায় ঝুঁকিতে আছে তাদের বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে ৪৫টি দেশের প্রতিনিধি, ১৯৮ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ৪২টি সংগঠন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে কমনওয়েলথ মহাসচিব আয়রকর বোতচওয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সবার উদ্দেশে বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে স্বল্পমেয়াদি ও খণ্ড খণ্ড উদ্যোগ নয়, আমাদের দরকার দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত বিনিয়োগ। আমাদের স্বাস্থ্য খাতের শাসনব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী, অবকাঠামো, ওষুধ সরবরাহ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’
মহাসচিব আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের নতুন পথ খুঁজে বের করতে হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স, সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট বন্ড ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ। তবে যে কোনো নতুন পদ্ধতি যেন সবার জন্য কাজ করে ও বৈষম্য না বাড়ায় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি নেতৃত্ব ও পারস্পরিকভাবে দায়বদ্ধশক্তিশালী একটি নীতিমালা।’
উন্নয়ন সহযোগিতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কমনওয়েলথ স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের কাজের প্রশংসা করে মহাসচিব বলেন, ‘এই সময়ে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।
এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লেসোথোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেলিবে মোচোবরোয়ানে। তিনি বলেন, ‘এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন অনেক দেশ আর্থিক চাপে আছে। আমাদের এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে পারে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা দেশের নিজস্ব বাজেট থেকে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো ও অর্থায়নের নতুন পথ খোঁজার নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা সবার জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্যকর্মী ঘাটতি মেটাতে বিনিয়োগ করা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ডিজিটাল হেলথ টুলস ও দেশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ বিষয়ে কমনওয়েলথ সচিবালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দেশের ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থা কতটুকু প্রস্তুত তা মূল্যায়নের জন্য ‘ডিজিটাল হেলথ ম্যাচিউরিটি অ্যাসেসমেন্ট’-এ সহায়তা দেওয়ার কথাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
