ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় রাহেলা বেগম (৪৫) নামের পাঁচ সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের মুখ ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রাহেলা উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের ভুড়ভুড়িয়া গ্রামের ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নবীনগর উপজেলার রসুল্লাবাদ গ্রামে। প্রায় ২৫ বছর আগে রাহেলার সঙ্গে ওয়াজেদ মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে চার মেয়ে ও এক ছেলের জন্ম হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুই থেকে তিন বছর আগে রাহেলার ছেলে ইউসুফ প্রেম করে বিয়ে করলে তা নিয়ে পরিবারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে ইউসুফ ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ওয়াজেদ মিয়া। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং প্রায়ই তাদের মধ্যে মারামারি হতো। এলাকাবাসীর ধারণা, এ কলহের জের ধরেই রাহেলাকে হত্যা করা হয়েছে।
রাহেলার ছোট ভাই সিএনজি চালক দানেছ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাগ্নে প্রেম করে বিয়ে করার পর থেকেই দুলাভাইয়ের (ওয়াজেদ) সঙ্গে আপার (রাহেলা) কলহ শুরু হয়। পরে ভাগ্নেকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে দুলাভাই প্রায়ই আপাকে মারধর করতেন। আমরা নিশ্চিত, দুলাভাই-ই আমার আপাকে হত্যা করে জমিতে ফেলে রেখেছে। তার মুখে ও চোখে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
বাঞ্ছারামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার পর নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিয়াস বসাক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে এসেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
