জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সাথে নিয়ে ভুমি মেলার উদ্বোধন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (২৫ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়।
ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হারুন অর রশিদ। তিনি মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব রয়েছেন।
ভূমি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওই আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ হারুন অর রশিদের বামে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী চকদারকে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হারুন অর রশিদ এ মেলায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে যুদ্ধ করেছি এটা আমার অহংকার। তিনি অফিসার ছিলেন, আমি সিপাহি ছিলাম। তার এই বক্তব্য ও অনুষ্ঠানে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
এ মেলায় মেলান্দহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার আশরাফুল আলম, উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহন তালুকদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মেলায় আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ হারুন অর রশিদের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক পরিচয় উঠে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। একটি সরকারি আয়োজনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকে বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেই পরিচয়ে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের কমিটিতে আছি। তবে এই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম।’
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল কবির মঞ্জু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রশাসন ফ্যাসিবাদী সরকার দলীয় একজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যিনি এতোদিন ফ্যাসিবাদ সরকারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। অথচ কোনো নির্দলীয় মুক্তিযোদ্ধাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি নিঃসন্দেহে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, 'আয়োজনটি উপজেলা ভূমি অফিসের ছিল। আমি নিজেও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। যতদূর জানি, সৈয়দ হারুন অর রশিদকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না।'
এ বিষয়ে ভূমি মেলার আয়োজক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান বলেন, ভূমি মেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছিল। আমরা ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের সরকারি অনুষ্ঠানে সৈয়দ হারুন অর রশিদকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে পেয়েছি। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা এ তথ্য আমার জানা ছিল না।'
