সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল বুধবার এই বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশের ধারা ৭ অনুসারে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে ইতোমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। ফলে অনেক আগ্রহী প্রার্থী নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত জমাও দিয়েছেন। তবে কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক পদে নিয়োগের উদ্দেশ্যে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন করে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে।
আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি সংযুক্ত করে আগামী ২২ জুনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে ডাকযোগে বা সরাসরি আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তবে যেসব প্রার্থী ইতোমধ্যেই নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে দরখাস্ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই গেজেটে বলা হয়, “সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের নিমিত্ত বা পরামর্শ প্রদান প্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি স্থায়ী কাউন্সিল গঠিত হবে, যা ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ নামে পরিচিত হবে।”
কাউন্সিলের নেতৃত্বে থাকবেন প্রধান বিচারপতি। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কাউন্সিলের পাঁচজন হবেন পদাধিকার বলে এবং দুজন অস্থায়ী সদস্য থাকবেন।
পদাধিকারবলে কাউন্সিলের পাঁচ সদস্য হলেন—প্রধান বিচারপতি (চেয়ারপারসন), আপিল বিভাগে কর্মরত প্রবীণতম বিচারপতি, বিচারকর্ম বিভাগ ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত প্রবীণতম একজন বিচারপতি, বিচারকর্ম বিভাগ থেকে নিযুক্ত হাইকোর্ট বিভাগের প্রবীণতম একজন বিচারপতি এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল।
অস্থায়ী দুই সদস্যের একজন হবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত কোনো আইনের অধ্যাপক বা আইন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যজন হবেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারক।
এই অধ্যাদেশ ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো, যেখানে বিচারক নিয়োগের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু করা হলো।
‘আমি এখন মুক্ত, এখন স্বাধীন’—কারামুক্তির পর বললেন আজহারুল ইসলাম
মৌরিতানিয়ার হজযাত্রীদের নিয়ে বিমান বিধ্বস্তের বিষয়ে যা জানা গেল