নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভানেত্রী হিসেবে সাবিকুন্নাহার তামান্না এবং সেক্রেটারি হিসেবে মোছা: আফসানা আক্তার আত্মপ্রকাশ করেন।
বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাবি মিডিয়া সেলের হুয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপে তারা নিজেদের নাম ঘোষণা করেন। শীঘ্রই তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তারা।
সংগঠনটির সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯-২০ সেশনের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে সেক্রেটারি মোছা: আফসানা আক্তার ১৯-২০ সেশনের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এদিকে আত্মপ্রকাশের দিনে নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রীসংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উক্ত আলোচনায় ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারকরণ, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের সহজলভ্যতা, নারী শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত কমনরুম, নামাজরুম ও ওযু খানার ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সময়ে সহযোগিতা, আবাসন সংকট নিরসন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে হলে প্রবেশের অনুমতি, যৌন হয়রানি মুক্ত ক্যাম্পাস, হলভিত্তিক মেডিসিনের সুব্যবস্থাসহ বেশকিছু দাবি পেশ করা হয়। সেই সাথে উক্ত দাবিসমূহ স্মারকলিপি আকারে উপাচার্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতন নিপীড়নের কারণে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ক্যাম্পাসে আমরা কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, এই সময়ের মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীসংস্থার প্রাথমিক কাঠামো গঠন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে শাখা সভানেত্রী ও সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু করব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বলেন, ছাত্রীসংস্থা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের সংগঠন ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে ছাত্রীসংস্থা ডাকসুতেও অংশগ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য কাজ করেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমরা সবচেয়ে বড় ভিক্টিম ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা নতুন পরিসরে কাজ শুরু করেছি। নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণের জন্য ছাত্রীসংস্থা অতীতে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। সামনের দিনগুলোতেও নারীদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে এই ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
