খুলনা সিটি করপোরেশন

অগ্রিম সমন্বয়হীনতায় তহবিল লুটপাট!

* ৮ থেকে ১০জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ কোটি ২৫ লাখের হিসাব দিচ্ছে না 
* কেউ আমলে নিচ্ছে না তাগিদপত্র
* মাসিক বেতন-ভাতা স্থগিত রেখে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত
* চলছে নানা সমালোচলা

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) বিভিন্ন সময়ে নানান জরুরি কাজ সম্পাদনে জন্য কঞ্জারভেন্সি শাখার নিম্নমান সহকারী (সাধারণ শাখার সাবেক প্রধান সহকারী) মো. নাঈমুজ্জামানকে চাহিদা অনুয়ায়ী অগ্রিম টাকা প্রদান করে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার কাছে অগ্রিম গ্রহণকৃত ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা রয়েছে। কিন্তু নিয়ম ভেঙে ৪ থেকে ৫ বছর পার হলেও তিনি করপোরেশনের হিসাব বিভাগে সেই টাকার সমন্বয় ভাউচার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেনি।

শুধুই নাঈমুজ্জামানই নন; অভিযোগ রয়েছে করপোরেশনের ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অগ্রিম নেওয়া ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা সমন্বয় করছেন না। বছরের পর বছর দফায় দফায় তাগিদপত্র দেওয়া হলেও বিষয়টি কানে তুলছেন না তারা। ফলে এর মাধ্যমে লুটপাট হচ্ছে করপোরেশনের তহবিল। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ করপোরেশনের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ও ঈদে মিলাদুন নবীসহ জাতীয় নানা দিবস পালন এবং অভ্যন্তরীণ অনেক অনুষ্ঠান ও সভা-সেমিনারের আয়োজন করে সিটি করপোরেশন। অনুষ্ঠান বা সভা-সেমিনার যে শাখার আওতায় পড়ে সেই শাখায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীই কাজটি সম্পাদন করেন। তবে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাহিদা অনুযায়ী অগ্রিম টাকা প্রদান করা হয়। নিয়ম রয়েছে অগ্রিম টাকা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে হিসাব শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে সেই টাকা সমন্বয় করতে হবে।

কিন্তু সংস্থাটির হিসাব শাখার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহু বছর ধরে ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কমপক্ষে ১ কোটি ২৫ লাখ অগ্রিম নেওয়া টাকা সমন্বয় করেনি। সমন্বয়হীন টাকার মধ্যে কঞ্জারভেন্সি শাখার নিম্নমান সহকারী (সাধারণ শাখার সাবেক প্রধান সহকারী) মো. নাঈমুজ্জামানের কাছে রয়েছে ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা, শিক্ষা কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামানের কাছে রয়েছে ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৩ টাকা, উচ্চমান সহকারী শেখ নুরুল আমিনের কাছে রয়েছে ৮ লাখ টাকা, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে রয়েছে ৬ লাখ, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলামের কাছে ২ লাখ ১০ হাজার, লাইসেন্স অফিসার (যানবাহন) শেখ মো. দেলওয়ার হোসেনের কাছে ৪৬ হাজার, সহকারী বাজার সুপার লিয়াকত হোসেনের কাছে ১৯ হাজার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ পাটোয়ারীর কাছে ৪৫ হাজার ও সম্পত্তি পরিদর্শক ইমতিয়াজের কাছে ১০ হাজার টাকা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খুলনার নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, হিসাব না দেওয়া মানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ লোপাট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্য। এটা রীতিমত করপোরেশনের বিধি-বিধান লঙ্ঘন। তাই কর্তৃপক্ষ তাগিদাপত্র দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি হিসাব না দেয় তাহলে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তারপরও টাকা আদায় না হলে প্রচালিত আইনে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অন্যরাও একই পথে হাঁটবে। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেবে। এতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। 

তবে এ ব্যাপারে করপোরেশনের বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অগ্রিম নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনী কাগজপত্র হিসাব বিভাগে জমা দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে একাধিকবার তাগিদাপত্র দিলেও তারা সমন্বয় করেনি। সবশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যদি কেউ সমন্বয় না করে অথবা ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে তার মাসিক বেতন-ভাতা স্থগিত রেখে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত