গাজায় সংকট নিরসনে ব্যবস্থা না নিলে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা: ম্যাক্রোঁ

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০১:৪৭ এএম

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের ব্যাপারে ইসরায়েল কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে ফ্রান্স। এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। খবর: আল-জাজিরা।

আজ শুক্রবার সিঙ্গাপুর সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, “মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে গাজায় যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা আর সহ্য করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সমাজ এ পরিস্থিতিতে নিরুত্তাপ থাকতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতির আলোকে আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে যদি বাস্তবসম্মত কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে, তাহলে আমাদের সম্মিলিত অবস্থান আরও কঠোর হবে।” একই সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে ফ্রান্স নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে।

তবে ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা বলে, “ম্যাক্রোঁর কাছে সত্যের কোনো মূল্য নেই।” তাদের দাবি, গাজায় কোনো মানবিক অবরোধ নেই এবং এই দাবি “পুরোপুরি মিথ্যা”। অথচ জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বারবার বলা বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে একরকম পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে ইসরায়েল।

বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা “সীমিত পরিমাণে” খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশের অনুমতি দেবে। তবে সহায়তার সেই অল্প প্রবাহের মাঝেও চলছে ব্যাপক বিমান হামলা, আর খাবারের খোঁজে ছুটে আসা অসহায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটছে।

মানবাধিকারের প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রতি বিদ্যমান আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা যেন আর ধরে না নিই যে ইসরায়েল মানবাধিকার রক্ষা করছে। তবু আমি আশা করি, ইসরায়েল সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে এবং আমরা কার্যকর কোনো মানবিক সাড়া দেখতে পাব।”

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ম্যাক্রোঁর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু নৈতিক কর্তব্য নয়, বরং এখন এটি একটি রাজনৈতিক অপরিহার্যতা।” যদিও তিনি উল্লেখ করেন, এমন স্বীকৃতি কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে দিতে হবে।

এর আগে, সপ্তাহের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে গাজা দখলের পরিকল্পনা এবং সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে ইসরায়েলের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্স এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একটি মত গড়ে তুলতে চায়, যাতে শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া যায়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ আয়োজনে জাতিসংঘের একটি সম্মেলনে এই বিষয়ে একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে। ওই রূপরেখায় একদিকে যেমন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো থাকবে, তেমনি ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ ইসরায়েলকে উত্তেজিত করে তুলতে পারে এবং পশ্চিমা জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য আরও গভীর হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত