লক্ষ্মীপুরে টানা ঝড়-বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ে খুটি ভেঙে যাওয়া, গাছের ডালপালার ভেঙে লাইনের উপর পড়া এবং জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।গত তিনদিন ধরে লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলা, কমলনগর ও রামগতিতে ১০টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগরে অসংখ্য গাছ-পালা পড়ে বিদ্যুৎ এর তার বিছিন্ন হয়ে যায়। ফলে কিছু এলাকায় গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে গ্রাহকদের কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কাজ চলছে। বৃষ্টি না হলে আগামীকালকের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রমাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী হাজী নুরুল আমিন স্কুল শিক্ষক আবদুজ্জ জাহেরসহ অনেকে অভিযোগ করেন এলাকায় বিদ্যুৎ নেই তিন দিন ধরে। মানুষ চরম দুভোর্গে দিন কাটছে। বিদ্যুৎ এর অভাবে যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। সন্ধ্যা হলে এলাকায় অন্ধকার নেমে আসে।
বিশেষ করে জেলার উপকূলীয় এলাকা রামগতি ও কমলনগরের বহু স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এসব এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার নেমে আসছে, এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।
রামগতি উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, ‘তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ, মোবাইল চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। রাতে ঘরে থাকা যায় না গরমে।’
কমলনগরের তোরাবগঞ্জ এলাকার গৃহবধূ সেলিনা বেগম জানান, ‘বৃষ্টি আর জোয়ারে ঘরে পানি উঠেছে। তার উপর বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শফিউল আলম বলেন, “লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। গাছের ডালপালা পড়ে লাইনের ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংযোগ চালু করা হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হতো। এই কারণেই অনেক স্থানে এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং সেসব স্থানে কাজ চলছে।’
তিনি আরও জানান, কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। তবে এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছপালা ও খুঁটি ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
