প্যারিসের ক্লাবটির চোখে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব। বারবার চেষ্টায়ও সেটি অধরাই থেকে যাচ্ছিল। তারকায় পরিপূর্ণ স্কোয়াড, কাতারি মালিকদের বিপুল বিনিয়োগ—সবকিছুর পরও বারবার ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতে। তবে অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ হলো। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেলল পিএসজি। মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে ছাড়াই ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতার চূড়ায় উঠল তারা, তাও আবার প্রতিপক্ষ ইন্তার মিলানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়ে।
জার্মানির মিউনিখ শহরের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তোলে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি)।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে পিএসজি। আর তার ফল আসে ১২ মিনিটেই। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান নুনো মেন্ডেস। সেখান থেকে হাকিমি সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে ঠেলে দেন। গোলকিপার কিছুই করতে পারেননি। এই গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।
৮ মিনিট পরেই পায় দ্বিতীয় গোল। তবে এবার গোলদাতা পিএসজির কেউ নন, ইন্টার মিলানেরই ফেডেরিকো দিমারকো। বক্সের বাইরে থেকে দেজিরে দোয়ের নেওয়া জোরালো শট তার গায়ে লেগে দিক বদলে জালে চলে যায়। গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে গণ্য হয়। তবে গোলের কৃতিত্বের বড় অংশই চলে যায় দোয়ের তীক্ষ্ণ উপস্থিতির ওপর।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজির আধিপত্য আরও বাড়তে থাকে। সেই আধিপত্যের ফসল আসে ৬৩ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেই বক্সে ঢোকেন দোয়ে। এরপর ডান পায়ের চিপ শটে ইন্টার গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্ট করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন ১৯ বছর বয়সী এই ফরাসি তরুণ।
৭৩ মিনিটে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ গোলটি করেন জর্জিয়ার ফরোয়ার্ড খভিচা কাভারাস্কেইয়া। ডি-বক্সে প্রবেশ করে বাঁ দিক থেকে কটব্যাক শটে বল জালে পাঠান তিনি। ইন্টারের রক্ষণভাগ তখন প্রায় ছত্রভঙ্গ। গোলরক্ষকও দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন খভিচার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে।
এটাই পিএসজির প্রথম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। এক যুগের বেশি সময় ধরে চলা ‘প্রজেক্ট’ অবশেষে সফল। এর আগেও তারা ফাইনালে উঠেছিল, সেমিফাইনালে গিয়েছিল বারবার, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবার নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে পরিণত স্কোয়াড আর লুইস এনরিকে’র নিখুঁত কৌশলে তারা জিতল ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব।
৮৬ মিনিটে পিএসজির হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন বদলি নামা তরুণ ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলা। গোলটির সূচনা হয়েছিল পিএসজির ডিফেন্স থেকেই। নিজেদের অর্ধ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় তারা। মাঝমাঠে বল পান দেজিরে দোয়ে, যিনি দুর্দান্ত এক থ্রু পাস বাড়ান ডান দিক দিয়ে ছুটে আসা বারকোলার উদ্দেশে। বক্সে ঢুকে গিয়ে কোনাকুনি দুর্দান্ত এক শটে বল জালে পাঠান তিনি।
ইন্টার গোলরক্ষক ইয়ন সামার তার বাঁ দিকে ডাইভ দিয়েও কিছুই করতে পারেননি। গোলটি ছিল নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এক উদাহরণ—ঠাণ্ডা মাথায় সময় নিয়ে নেওয়া একটি গোল, যা পিএসজির দাপটের শেষ চিহ্ন হয়ে রইল এই ফাইনালে।
এই গোলের মাধ্যমে পিএসজি ৫-০ গোলে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের ফল নিশ্চিত হয়ে যায় প্যারিসের ক্লাবটির পক্ষে।
অন্যদিকে, ইন্টার মিলানের জন্য এই ফাইনাল হয়ে থাকল দুঃস্বপ্ন। ম্যাচজুড়ে পিছিয়ে থাকাই নয়, একের পর এক গোল হজম করে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে তারা। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে বড় ধাক্কাই খেল ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
সভাপতি হয়ে প্রথম সভায় যেসব উদ্যোগ নিলেন বুলবুল
ফারুককে সরিয়ে দেওয়ার কারণ জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা