ফেনী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিতা রানী দাশ ও সহযোগী সবিতা রানী দাশের ভুল চিক্যৎসা ও অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ২লাখ ৫০ হাজার টাকায় রফাদফা করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) রাতে রোগীর স্বজনরা ও ফেনী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা রিতা রানীর স্বজনরা নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির চিকিৎসা বাবত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্বান্তে রিতা রানী দাশ ও সবিতা রানী দাশ কে ফেনী মডেল থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদ এর স্ত্রী নুর নাহার মিতু (২০) প্রসব বেদনা উঠলে তার স্বজনরা তাকে ফেনী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এখানে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় ডেলিভারি করাতে না পারলে স্বজনারা রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে রিতা রানী দাশ তাদের সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব করানোর ভয় দিয়ে সিজার করেন। একপর্যায়ে সন্ধা ৭টায় একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে। প্রসব পরবর্তী সময়ে প্রসূতি নুর নাহার মনি অসুস্থ হয়ে পড়ে ও নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সময় কর্তব্যরত রিতা রানী দাশ তার সহযোগী সবিতা রানী দাশ নবজাতকের চিকিৎসা সেবা না দিয়ে তার পিতা নুর মোহাম্মদ এর কাছে ৫ হাজার টাকা বকসিস দাবী করে। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে মা ও শিশুর জটিল সমস্যা দেখা দিলে নিরুপায় হয়ে রিতা রানী দাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটি মৃত বলে জানান। এতে রোগীর স্বজনরা রিতার অবহেলায় তাদের নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে। রোগীর স্বজনরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসে রিতা রানী দাশকে খুঁজতে থাকে, অবস্থা বেগতিক দেখে রিতা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় ।
এদিকে নিজেকে নির্দেশ দাবী করে রিতা রানী দাশ ,সবিতা রানী দাশ ও দারোয়ান মেহেরাজ সহ ৩ স্টাফ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ প্রসূতির শিকারোক্তি নিয়ে তা রেকর্ড করার চেষ্টা করে। এসময় উপস্থিত রোগীর স্বজন ও হাসপাতালে থাকা জনতা রিতা, সবিতা ও মেহেরাজকে মারধর করে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ রিতা রানী দাশ, সবিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় মেহেরাজ পালিয়ে যায়।
গত শনিবার সারাদিন দফায় দফায় বৈঠক শেষে নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতির চিকিৎসা বাবত ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষই ৫০ টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করে টাকা পরিশোধ ও বুঝে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, এ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে এর আগেও আরো অনেক অভিযোগ উঠেছে।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ ডা. নাসিরন আক্তার মুক্তা জানান, গত শুক্রবার দুপুরে নুর নাহার রোগীটি হাসপাতালে আসলেও দায়িত্বরত নার্স ও পরিদর্শিকা আমাকে অবহিত না করেও রোগীকে ভর্তি না দিয়ে ডেলিভারি করার চেষ্টা করে। রাতে প্রসব পরবর্তী সময়ে মা ও শিশু অসুস্থ হলে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জেলা হাসপাতাল থেকে রিতা রানী দাশ ও সবিতা রানী দাশকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। শুনেছি উভয় পক্ষই সমোঝতা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন জানান, বাদী প্রথমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে উভয় পক্ষই আপোষ মিমাংসা হওয়ায় বাদীর লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছি শিশু মৃত্যুর সাথে রিতা রানী দাশ জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
নির্বাচন নিয়ে গোলকধাঁধা
ভারতীয় গণমাধ্যমে সেনাবাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ, কড়া প্রতিক্রিয়া
গাইবান্ধায় আবার বাড়ছে নদ-নদীর পানি
পিএসজি সমর্থকদের বিজয় উদযাপনে সংঘর্ষ, নিহত ২ ও গ্রেপ্তার ৫৫৯