রবিবার ভোর থেকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরীর অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে গেছে নোংরা ও ময়লাযুক্ত পানিতে। আবাসিক বাসাবাড়ি, দোকানপাট, কাঁচাবাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে ময়লাযুক্ত পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী।
আবহাওয়া অফিস ময়মনসিংহের উচ্চ পর্যবেক্ষক নির্মল চন্দ্র মজুমদার বলেন, রবিবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত ডুবে যায়।
নগরবাসী জানান, সারাবছর নগরীর বিভিন্ন সড়কে ড্রেনের উন্নয়ন কাজ করা হয়। প্রতিবছর খাল পরিষ্কারও করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা মোটা অংকের টাকা ব্যয় করছেন। অথচ তা কোনো কাজেই আসছে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, খাগডহর, কাঠগোলা, চরপাড়া, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড, বদরের মোড়, ধোপাখলা, কাশর মসজিদের মোড়, জেলাখানা রোড়, কলেজ রোড ও ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এ সময় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অফিসগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমজীবী মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে যারা রাস্তায় বের হয়েছিলেন, তাদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। সব সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা ও ইজিবাইকসহ অনেক গণপরিবহন যাত্রী পরিবহন করতে চাননি। আর যারা রাজি হয়েছেন, তারা নিয়েছেন দ্বিগুণ ভাড়া।
নগরীর আকুয়া হাবুন বেপারী মোড় এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, সকালের ভারী বৃষ্টিতে ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আমার ছেলে-মেয়ের বই-খাতাসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস পানিতে ভিজেছে। বিকেল পর্যন্ত বাসার সামনের রাস্তায় হাঁটুপানি জমে আছে।
কাঠগোলা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল হক তানভীর বলেন, আমি মোটরসাইকেল নিয়ে নিয়মিত অফিসে আসি। কিন্তু বাসার সামনে প্রায় কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় অতিরিক্ত ১১০ টাকা রিকশাভাড়া দিয়ে অফিসে এসেছি। যেখানে ভাড়া সব্বোর্চ ৬০ টাকা।
রিকশা চালক আলমগীর বলেন, বৃষ্টিতে যাত্রীরা ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে খনাখন্দে পড়ে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। সেইসাথে বৃষ্টিতে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। কোন ভাবেই রিকশা চালাতে কষ্ট হয়। বর্ষাকালে প্রায়ই আমাদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মেছুয়া বাজারের ব্যবসায়ী সুমন বলেন, কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে দোকানের ভেতরে পানি ঢুকেছে। আনেক মালামাল ভিজে গেছে। বর্ষা এলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে প্রতিবছর এমন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্বদেশী বাজার এলাকার রাজন রায় বলেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়া। কয়েক বছর ধরে ড্রেনের কাজ করা হলেও এর সুফল আমরা পাচ্ছি না।
এদিকে, ড্রেনেজ-ব্যবস্থার দুর্বলতাকে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষের দায়সারা ড্রেন পরিষ্কার ও অব্যবস্থাপনার কারণেই নগরবাসীকে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ড্রেন পরিষ্কার না রাখার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরী পানিতে ডুবে যায়। প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন নির্মাণ ও খাল খননকাজে মোটা অংকের টাকা হরিলুট করা হয়েছে। ফলে প্রতিবছর কার্যক্রম চললেও ফলাফল শূন্য।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া জানান, নগরীতে অনেকগুলো ড্রেনের পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আবার নতুন করে ১২০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। এগুলো শেষ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, এ বছর কিছুটা জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও সামনের বছর উপকৃত হবে নগরবাসী।
'জনসংযোগ কর্মী মানেই মুখপাত্র নয়, মুখপাত্র হয়ে উঠতে হয়'
পরমব্রত-পিয়ার ঘরে এলো নতুন অতিথি
সিলেট ও চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
তারেক রহমানসহ সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি