অবিরাম বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, গোয়াইন, ধলাইসহ সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি একাধিক পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের অমলশীদে বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলায় বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে।
জেলার সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। অনেক সড়কেও পানি উঠেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন মানুষ। অবশ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, এখনো কারও বাড়িঘরে পানি ঢুকেনি। বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণ গতকাল রবিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। শনিবার রাতে একটানা বর্ষণের সময় সিলেট নগরীর অনেক এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাসার নীচতলা, দোকানপাটে পানি ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। নগরীর শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, নাইওরপুল, হাওয়াপাড়া, সওদাগরটুলা, লোহারপাড়া, সুবিদবাজার, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা, দরগামহল্লা, বাগবাড়ি, ভাতালিয়া, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত নেমে যেতে পারে সেজন্য ড্রেন-খালের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। জরুরি সেবা প্রদানের জন্য খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।
সিলেট আবহাওয়া অফিস রবিবার বিকালে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৪০৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা চলতি মওসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসন সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনগুলো বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। তবে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কেউ পড়েননি।
