গাজীপুরের শ্রীপুরে কারখানার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে এক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ শ্রমিক দ্বিমুখী সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৬৪ পোশাক শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে শিল্প পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় আরও অন্তত দেড় হাজারের বেশি শ্রমিককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে ঘটনার দিন হামলা ও ভাঙচুরে সাথে জড়িত এমন ২৩ জন পোশাক শ্রমিককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সস্যরা। পরে তাদের শ্রীপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে শিল্প পুলিশ তাদের আদালতে সোর্পদ করেন।
পুলিশ বলছে, এ মামলায় কোনও নারী শ্রমিকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্ত শেষে কোনো নারীর শ্রমিকের হামলা ভাঙচুরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আসামি করা হবে। ঘটনায় জড়িত আটক ২৩ শ্রমিককে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পপুলিশের (শ্রীপুর সাব জোনাল) উপপরিদর্শক (এসআই) সুশান্ত কুমার রায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত ওই শ্রমিকের নাম নিহত মো. জাকির হোসেন (২৫)। তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাদেচিরাম গ্রামের মোক্তার উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকার জিন্নাত নিটওয়্যার লিমিটেড পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সকালে অফিস শুরুর ঘণ্টাখানের পর কারখানার আটতলা ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া নতুন বাজার এলাকায় ডিবিএল গ্রুপের জিন্নাত নিটওয়্যার পোশাক কারখানার এক শ্রমিক কারখানার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যান। শ্রমিকদের অভিযোগ শ্রমিকে অপমান করায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা একত্র হয়ে প্রতিবাদ করেন। পরে শ্রমিকরা ক্ষুব্দ হয়ে কারখানায় ভাঙচুর চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উত্তেজিত শ্রমিকরা। দফায় দফায় দুপক্ষের সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় ক্ষুব্দ শ্রমিকরা শিল্প পুলিশের ওপর হামলা ও তাদের একটি সাজোঁয়া যানে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়েন। দুপক্ষের এ সংঘর্ষে শিল্পপুলিশের ২০ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয় কারখানা এলাকায়। এরপর কারখানা আগামী ১২ জুন পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের সহকর্মী জাকির বেশ কদিন ধরেই অসুস্থ ছিল। অসুস্থতার জন্য মাঝে একদিনের ছুটি নেন তিনি। পরে আবারও ছুটি চাইলে তাকে অপমান করা হয়। পরে সেই অপমানে সইতে না পেরে কারখানার আটতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করলে পুলিশ প্রথমে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে অহেতুক মারধর করে। পুলিশ অনেক নারী শ্রমিককেও বেধড়ক পিটিয়েছে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ খোঁজে খোঁজে শ্রমিকদের পিটিয়েছে। তারা বলেন আমরা শান্ত অবস্থায় ছিলাম। পুলিশ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করে তোলেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শিল্প পুলিশের এসআই সুশান্ত কুমার রায় জানান, পুলিশের ওপর হামলা সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়া ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি আছে আরও অন্তত দেড় হাজারেরও বেশি। তদন্ত চলছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক জানান, শিল্পপুলিশের করা মামলায় আটক ২৩ জনকে আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে আজ দুপুরে শিল্পপুলিশ তাদের বুঝে নিয়ে (আটকৃতদের) আদালতে সোপর্দ করেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের (শ্রীপুর সাব জোনাল) ওসি আবদুল লতিফ জানান ওই মামলায় কোনো নারী শ্রমিককে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্ত করে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আসামি করা হবে। দুপুরে আটক ২৩ পোশাক শ্রমিককে আদালতে তোলা হয়েছে। তিনি বলে হামলায় আমাদের ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। আমাদের একটি এপিসি (সাজোঁয়া জান) গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
