ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুরহাটে শেষ সময়ে বেড়েছে বেচাকেনা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গরুরহাটে শেষ সময়ে বেড়েছে বেচাকেনা।  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে জেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮২৭টি গবাদি পশু। চাহিদার তুলনায় ৮০৮ টি গবাদি পশু বেশি রয়েছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলায় ৪১৭১টি খামার, সরাইল উপজেলায় ১২৭৫টি, আখাউড়া উপজেলায় ৭৭৭টি, কসবা উপজেলায় ২০৪৪টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৬১৮টি, নবীনগর উপজেলায় ১৭০৩টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১২৮১টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১০২৭টি ও বিজয়নগর উপজেলায় ৮৯৬টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৫৮৮৯৪টি ষাঁড়, ২৩৪২৩টি বলদ, ১৭২৫০টি গাভী, ১২১৬৬টি মহিষ, ১৫৩২১টি ছাগল, ৮৫৮১টি ভেড়া লালন-পালন করা হয়েছে। এছাড়াও অনেক কৃষক পরিবারেই কোরবানীর হাটে বিক্রির জন্য ২/৩টি করে গবাদি পশু লালন-পালন করছেন। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির হাট বসবে ১২১টি।

সরেজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুর, ভাদুঘর, মনিপুর বন্দরবাজার, আখাউড়া, চম্পকনগর, আইড়ল, আউলিয়া বাজার গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই হামারিরা গরু মহিষ ছাগল নিয়ে বসে আছে। বৃষ্টির জন্য ক্রেতাদের বাজারে খুব একটা দেখা যায়নি। যারাই বাজারে আছে ঘুরে ঘুরে দেখছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ বৃষ্টির জন্যই আমাদের এত কষ্ট। তবে মঙ্গলবার ও বুধবার বেচাকেনা বেড়েছে।

সোমবার (২ জুন)  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সুহিলপুর বাজারে বিক্রেতা বশির মিয়া বলেন, ‘একটু পর পর বৃষ্টিতে নামে। এমন বৃষ্টি থাকলে কে আসবে গরু কিনতে। বৃষ্টির জন্য বাজারে কোন মানুষই আসে না। দেড় লাখ টাকা একটি গরুর দাম উঠছিল ভাবছিলাম আরেকটু বাড়লে দিয়ে দিব কিন্তু বৃষ্টির জন্য কিনতে আসা লোকটি আর আসেনি।’ 

মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে মনিপুর বন্দরবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা ও খামারিরা বাজারের মাঠে গরু মহিষ ছাগলে ভরপুর। ক্রেতারাও মাঠে ঘুরে ঘুরে পছন্দের পশু কিনছেন।

মনিপুর বন্দরবাজারের ইজারাদার মো. জুয়েল খান বলেন, ‘আমাদের বাজারে যারা গরু ছাগল কিনতে আসে তাদের কাছ থেকে নামে মাত্র হাসিল নিয়ে থাকি। ক্রেতারাও খুশি হয়।’ বেঁচাকেনা ভালই বলে জানান তিনি।

বিজয়নগর উপজেলার আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর বাজার, আড়িয়াল বাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, শেষ সময়ে বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের দরদাম নিয়ে বাজার মুখরিত।।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের লিল মিয়া আউলিয়া বাজারে একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘শখের পশুকে লালনপালন করে বিক্রি করতে এনেছি। তা-ও বিক্রি করতে যেন মনে কষ্ট লাগতেছে। ষাঁড়টিকে আমি খুব যত্ন করে লালনপালন করেছি। ২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি কিন্তু চাহিদা মত দাম পাচ্ছিনা। ১ লাখ ৮০ হাজারের নিচে বিক্রি করলে লোকসান হয়ে যাবে কিন্তু দেড় লাখের বেশি কেউ বলে না। ঈদের আগেরদিন পর্যন্ত নিয়ে আসবো দেখি কত বিক্রি করতে পারি।’

বিজয়নগর উছাপুরা ইউনিয়নের আইড়ল বাজারের ইজারাদার মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘মঙ্গলবার ও বুধবার প্রচুর বেচাকেনা হয়েছে। পুরো বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের অনেক চাপ ছিল। বাজারে হাসিল হিসেবে আমরা খুব কম টাকা করে নিয়ে থাকি এজন্য ক্রেতারাও পশু কিনে খুশি হয়ে বাড়ি যাচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের নয়নপুর এলাকার রূপচান্দ বিবি ডেইরি খামারে গিয়ে দেখা যায় ওই খামারে কোরবানীর জন্য শতাধিক দেশীয় গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর আমরা দেড় শতাধিক গরু লালন-পালন করেছিলাম। গত বছর ৩০টি গরু বিক্রি করতে পারিনি। গত বছরের থাকা ৩০টি গরুসহ এই বছর শতাধিক গরু লালন-পালন করেছি। সবগুলোই দেশীয় জাতের। গরুগুলোকে স্বাভাবিক খাবার দেয়া হয়। বাজারে রেগুলার নিয়ে যাচ্ছি বিক্রিও হচ্ছে ভালো।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ বছর চাহিদার তুলনায় বেশি পশু রয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলায় কোরবানির গরু বিক্রি করা যাবে। আশাকরি এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার উপরে গবাদি পশু কেনা বেচা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত