চৈত্র বা এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি মনে করেন, এই সময় নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে অশনি সংকেত নেমে আসবে এবং একমাত্র লাভবান হবে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ’।
আজ সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরকারের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, “এপ্রিল মাস বাংলায় চৈত্র মাস। এই সময়টা খরা ও তীব্র গরমে ভরা। মাঠ-ঘাট চৌচির হয়ে যায়, প্রচণ্ড রোদের তাপে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কেন্দ্রে সামিয়ানা, ফ্যান বসানো বাধ্যতামূলক হবে। এমনকি ছাদওয়ালা গাড়িতে করে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে হবে। না হলে এত গরমে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না। অন্যদিকে প্রার্থীদের জন্য প্রচারণাও হয়ে উঠবে কঠিন।”
সরকারের উপদেষ্টারা এ বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চয়ই অবগত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কেন এত আগ্রহ এই সময়ে নির্বাচন করার? এটা কি পরিকল্পিতভাবে ভোটারশূন্য নির্বাচন দেখানোর প্রয়াস নয়?”
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কোনো আসনে যদি ৪০ শতাংশ ভোট না পড়ে, তাহলে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণ করতে হয়। এপ্রিলের প্রচণ্ড গরমে কোনো আসনেই ৪০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, “দেশের আবহাওয়া ও বাস্তবতা বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর ও জুন মাসকে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে রোডম্যাপে রেখেছিলেন। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল, এমনকি জামায়াতসহ কিছু দলও রমজানের আগেই নির্বাচন চেয়েছে। সরকার চাইলে এখান থেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারত।”
তিনি সরকারের সিদ্ধান্তকে 'অপরিণামদর্শী' আখ্যায়িত করে সতর্ক করে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বদলানো না হলে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব আরও বাড়বে। আর সেই সুযোগই নেবে আওয়ামী লীগ।”
রাশেদ খাঁনের মতে, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতির জন্য অশনি সংকেত। তাই অবিলম্বে সরকারকে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।”
শরীয়তপুরে ধসে গেছে তীর রক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার এলাকা
১২ দেশের ওপর ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে