নারীর এন্ডোমেট্রিয়োসিস চকলেট সিস্ট এবং বন্ধ্যত্ব

আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ০৫:০৬ এএম

এন্ডোমেট্রিয়োসিস এমন এক রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের লাইনিং এন্ডোমেট্রিয়াম সেটি ডিম্বাশয়, ফেলোপিয়ান টিউব এবং তলপেটের অন্যান্য অংশ চলে আসে। মেয়েদের প্রতি পিরিয়ডের সময় যেমন ব্লিডিং হয়, ঠিক তেমনভাবেই এসব এন্ডোমেট্রিয়োটিক টিস্যুতে মাসিকের সময় ব্লিডিং হয়ে ডিম্বাশয়ে একটা সিস্ট তৈরি হয়। যাকে আমরা চকলেট সিস্ট বলি। এই সিস্ট ২৫ ভাগ থেকে ৩০ ভাগ রোগীর বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী।

কীভাবে বন্ধ্যত্ব হয়

চকলেট সিস্টটির প্রেশারের কারণে পার্শ্ববর্তী ভালো ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ওভারিয়ান রিজার্ভ কমে যায়। সিস্টের সঙ্গে তলপেটের পেরিটোনিয়াম, খাদ্যনালি, মূত্রথলি একসঙ্গে জট পাকিয়ে এডহেশন তৈরি করে। তাই ওভুলেশন হলেও ফেলোপিয়ান টিউব ঠিকমতো ডিম পিকআপ করতে পারে না। সেই সঙ্গে টিউবের নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং জরায়ুতে বাচ্চা ঠিকমতো বসতে পারে না।

লক্ষণ

পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথা, তলপেটে সার্বক্ষণিক ব্যথা, সহবাসে ব্যথা, মাসিকের সময় প্রস্রাবে ব্যথা, মাসিকের সময় পায়খানার রাস্তায় ব্যথা ও বন্ধ্যত্ব।

রোগ নির্ণয়

সামান্য TVS আলট্রাসনোগ্রাম করে চকলেট সিস্ট ডায়াগনসিস সম্ভব। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়াগনসিস সহজ না হলে  MRI-i সহায়তা লাগতে পারে।

তবে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ওভারিয়ান রিজার্ভ (AMH) এবং স্বামীর বীর্য পরীক্ষা করে নিতে হবে।

চিকিৎসা

বন্ধ্যত্ব না থাকলে আমরা চকলেট সিস্ট রোগীদের ওভারিয়ান সাপ্রেসিভ থেরাপি বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, প্রজেস্টেরন এগুলো দিয়ে থাকি। কিন্তু যেসব রোগী বাচ্চা চায় তাদের এ ধরনের ওষুধ দেওয়া যায় না। সেই ক্ষেত্রে আমরা সিস্টের সাইজ ছোট হলে (২.৫ থেকে ৩ cm) এবং একটি ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে সরাসরি ডিম ফোটার ওষুধে বা ওভুলেশন ইনডাকশনে চলে যেতে পারি। কিন্তু সিস্টের সাইজ বড় হলে (৪-৫ cm) ওভারিয়ান রিজার্ভ অর্থাৎ ডিমের সংখ্যা চেক করে  Laparoscopy -এর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। Laparoscopy - করে সিস্ট অপসারণ করার পরে ৩ মাসের মধ্যে তাকে গর্ভধারণের চেষ্টা করতে হবে। কারণ গর্ভধারণে বেশি দেরি করলে সিস্টটা আবার দেখা দিতে পারে।

স্বাভাবিকভাবে অথবা ওভুলেশন ইনডাকশনের মাধ্যমে গর্ভধারণ না হলে আমরা Intrauterine insemination (IUI)  অথবা IVF-i  পরামর্শ দিয়ে থাকি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত