টানা ৫৮ দিনের আবরোধ শেষে বুধবার মধ্যরাত থেকে গভীর সমুদ্রে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ শিকারে বের হয়েছে অর্ধলক্ষাধিক জেলে। জালে মিলবে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ, এমন স্বপ্ন, প্রত্যাশা নিয়ে উপকূল থেকে দুই সহস্রাধিক ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করেছে জেলেরা। অপরদিকে জেলেদের মাছ নিয়ে ফেরার অপেক্ষায় দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের আড়ৎগুলো।
সামুদ্রিক মাছসহ ৪৭৫ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের বাঁধাহীন প্রজনন, শারীরিক বৃদ্ধি, উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই আহরণের জন্য ২০১৫ সাল থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরার ওপর টানা ৫৮ দিনের অবরোধ আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময় সাগরে সব ধরনের মাছ আরোহন, পরিবহন, বাজারজাত, মজুদসহ ক্রয়-বিক্রিয় নিষিদ্ধ করে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে এ সময়ে বেকার হয়ে পড়ে উপকূলের অর্ধলক্ষাধিক জেলে।
সাগরে যাত্রায় শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, কেউ রং দিচ্ছেন, কেউবা মেরামত করছেন জাল। আবার অনেকে ট্রলারে তুলছেন সাগর যাত্রার নিত্যপ্রয়োজনী সামগ্রী। ব্যস্ততার এ সময়ে যেন কথা বলার সময় নেই কারোই। বুধবার সকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে পটুয়াখালীতে দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ রাংগাবালীর উপকূলী জুড়ে। জেলে পাড়ায়ও বইছে আনন্দ-উৎসব। ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরার ওপর টানা ৫৮ দিনের অবরোধ শেষে সাগর প্রস্তুতিতে জেলে, ট্রলার মালিকদের এমন সাজ সাজ রব। ভারতের সঙ্গে মিল রেখে অবরোধ দেওয়ায় জেলেদের জালে মিলবে প্রত্যাশানুযায়ী মাছ, এমন আশা জেলে-ব্যবসায়ীদের। ফিরবে জেলে, ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। এমন প্রত্যাশা জেলে, আড়ৎদারদের।
মহিপুরের জেলে সিরাজ, আলতাফ, নাসিরসহ আরো অনেকে বলেন, ৫৮ দিন কর্মহীন সময় পার করেছি। আয় না থাকায় জমানো টাকা খরচ করতে হয়েছে। দেনা করেও সংসার চালাতে হয়েছে। আশা করছি মৌসুম ভালো যাবে। প্রচুর মাছ জালে ধরা পড়বে। তাহলে দেনা শোধসহ মহাজনি দাদান শোধ করতে পারব।
ট্রলার মালিক মনির বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মৌসুম ভালো যাচ্ছে না। লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে। অনেক জেলেও এখন মাছ শিকারে যেতে চাচ্ছে না। এবার মৌসুম ভালো হলে বিগত বছরের দায়-দেনা শোধ করতে পারলেই খুশি হব।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, অবরোধ শতভাগ সফল হওয়ায় সাগরে মিলবে পর্যাপ্ত মাছ। জেলায় নিবন্ধিত ৮১ হাজার থাকলেও এর মধ্যে গভীর সমুদ্রগামী ইলিশ শিকারী জেলে রয়েছে ৪৭ হাজার। অবরোধকালীন প্রতি জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল প্রদান করেছে সরকার।
বাঁশখালীতে আ.লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সেলিম গ্রেপ্তার
এসএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে