বাসে একা পেয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, চালক আটক

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৯:০৭ এএম

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দিতে একটি যাত্রীবাহী বাসে এক কলেজছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাসচালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা চালককে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। পরে সেনাবাহিনী তাঁকে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। তবে হেলপার লিটন মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এই ঘটনা ঘটে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া চালক মো. সাব্বির মিয়ার বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতাবাদ বাংলাবাজার এলাকায়। তাঁর বাবার নাম ছাতির মিয়া। পালিয়ে যাওয়া হেলপার লিটন মিয়া সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকার ফার্মগেটের একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড় বাজার এলাকায়। ওই দিন সকালে তিনি ঢাকার ফার্মগেট থেকে ‘বিলাশ পরিবহন’ নামে একটি বাসে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে শায়েস্তাগঞ্জে নামার কথা থাকলেও বাসে ঘুমিয়ে পড়ায় তা সোজা সিলেটে চলে যায়।

সিলেট পৌঁছে ঘুম ভাঙার পর তরুণী বাড়ি ফিরতে সেখান থেকে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরেকটি বাসে নবীগঞ্জ হয়ে আজমিরীগঞ্জ যাওয়ার জন্য ওঠেন। বাসটি শেরপুর পৌঁছালে অন্য যাত্রীরা নেমে যান। তরুণী একা থাকায় চালক সাব্বির ও হেলপার লিটন তাঁকে বাসেই পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

পরে আউশকান্দি এলাকায় এসে তরুণী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দেন। সেনাবাহিনী এসে বাসচালক সাব্বির মিয়াকে আটক করে। তবে হেলপার লিটন মিয়া পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকেই সেনাবাহিনী ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী ও অভিযুক্ত চালককে নবীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাসচালককে স্থানীয়রা ধরে আমাদের কাছে দিয়েছে। হেলপার পালিয়ে গেছে, তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীকে আমরা উদ্ধার করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত