ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে কেন ইসরায়েলকে সমর্থন কুর্দীদের

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম

ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছে উত্তর ইরাকের কুর্দিরা। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন একজন কুর্দি সাংবাদিক। কিন্তু কেনো তারা জায়নবাদীদের সমর্থন করছেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ওই সাংবাদিক।

ওই সাংবাদিক টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেন, ‘বেশিরভাগ কুর্দির মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলার এক ধরনের নীরব সমর্থন আছে। কেউ কেউ তো আবার আনন্দও প্রকাশ করছেন ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার কারণে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে মানুষ প্রকাশ্যেই সন্তুষ্টি জানাচ্ছেন। এই অনুভূতির পেছনে আছে ইরানি শাসনব্যবস্থার প্রতি তীব্র ক্ষোভ। কারণ তারা ইরান ও ইরাক উভয় স্থানেই তাদের নিজস্ব প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে কুর্দিদের অধিকার দমন করেছে। তাই যখন ইরান হামলার শিকার হয়, অনেক কুর্দি সেটিকে তাদের অন্যতম প্রধান শত্রুর ওপর আঘাত হিসেবে দেখেন।’

এমনকি কেউ কেউ আলোচনা করছেন ইরানে ছুটি কাটানোর সম্ভাবনা নিয়েও।

তবে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নীরব রয়েছেন।

বিষয়টিকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে ওই সাংবাদিক বলেন, “এ ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, আর এ বিষয়ে নীরব থাকলে শান্ত কূটনীতি ও আত্মরক্ষার পথ খোলা থাকে। অধিকাংশ নেতাই সম্ভবত ঘটনাপ্রবাহ খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, তবে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। এমনকি গুজব আছে, অনেক কুর্দি নেতা এরবিল ছেড়ে গোপন স্থানে চলে গেছেন, কারণ তারা আশঙ্কা করছেন ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে।’

বিশেষ করে তরুণ কুর্দিদের মধ্যে অনেকে আশা করছেন ইসরায়েলের হামলার সূত্র ধরে যে প্রতিক্রিয়া চলছে তার জেরে শেষ পর্যন্ত ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।

কুর্দী সাংবাদিক বলেন, ‘তাদের ধারণা ইরানি সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে বা পতন হলে ইরাকের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যও পরিবর্তিত হবে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র শিয়াদের প্রভাব কমবে এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের জন্য বাগদাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দিদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে যে ইরাকি সরকার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারকে (কেআরজি) অবহেলা করে আর এর পেছনে দায়ী ইরানি প্রভাব।’

এদিকে ইরানেরও উদ্বেগ রয়েছে। কেননা এই সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে ফের ইরানে প্রবেশ করতে পারে।

কুর্দি দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেহচিরভান বারজানির সঙ্গে আলাপের সময় জোর দিয়ে বলেন, ‘উভয় দেশের শত্রুরা যেন সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত