রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে প্রকাশ্যে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে গুলি করে ২২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অস্ত্রসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রের হোতা জলিল মোল্লা, মোস্তাফিজ, পলাশ, দিপু, সোহাগ ও জাফর। গত সোম ও মঙ্গলবার একযোগে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ ও যশোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ ৩ হাজার টাকা, ১০৬টি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ২ লাখ ১২ হাজার টাকার জাল নোট, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি চাপাতি এবং তিনটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালত।
ডিবি জানায়, পেশাদারচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতি করে আসছিল। সর্বশেষ মিরপুরের ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সূত্র ধরে সংঘবদ্ধ এ ডাকাত দলের সন্ধান মেলে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তারা এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ৫৩ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায়ও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাহমুদ মানি এক্সচেঞ্জের মালিক রাসেল ও তার ভগ্নিপতি জাহিদুল হক চৌধুরী মিরপুর-১১ সি-ব্লকের বাসা থেকে ২১ লাখ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা নিয়ে হেঁটে মিরপুর-১০ নম্বরের অফিসে যাচ্ছিলেন। শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ও ফায়ার সার্ভিসের মাঝামাঝি গলির মুখে পৌঁছলে মোটরসাইকেলে ওঁৎপেতে থাকা ৭ থেকে ৮ মুখোশধারী ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। ডাকাতদের একজন পিস্তল ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে আরেকজন গুলি ছোড়ে এবং একজন ধারালো চাপাতি দিয়ে জাহিদুলের কোমরে আঘাত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদুল রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। ডাকাতরা চারটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার ভিডিও একজন পথচারী মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঘটনায় আহত জাহিদুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।’
মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ প্রথমে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি হায়েস মাইক্রোবাস শনাক্ত করে। মাইক্রোবাসের নম্বরের সূত্র ধরে প্রথমে মালিককে খুঁজে বের করা হয়। পরে তিনি জানান, মাইক্রোবাসটি তার এবং এটি ভাড়া করেছিল চালক জাফর। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
জাফর ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে জানান, ‘ডাকাতির সময় গাড়িতেই বসা ছিলেন তিনি। ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত একজনের ছবি দেখানো হলে তিনি তার পরিচয় জানান।’ সেই সূত্র ধরে একযোগে ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ ও যশোরে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের মূল পরিকল্পনাকারী জলিল মোল্লাসহ চক্রের আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, হত্যা ও অস্ত্রআইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা।
ডিবি জানায়, ডাকাতচক্রটি এর আগেও ভয়াবহ কয়েকটি ঘটনায় জড়িয়েছিল। গত ২৪ জানুয়ারি কামরাঙ্গীরচরে গুলি করে ৫৩ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই এবং ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ধানম-ি সাত মসজিদ রোডে গুলি চালিয়ে ৫২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও তারা জড়িত বলে আসামিরা স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় পাঁচ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর বিভাগের এসআই (ডিবি) নাজমুল হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী আকবর হোসেন তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
