হেডিংলিতে টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা রূপকথার মতোই এগোচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু দিনের শেষভাগে যশপ্রীত বুমরাহর একটি জাদুকরী স্পেল সব গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিল। ওলি পোপের দারুণ এক শতক দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো ইংল্যান্ডকে ফের চাপের মুখে ফেলে দিয়েছেন ভারতের পেস সেনসেশন।
ভারতের প্রথম ইনিংসে ৪৭১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ২০৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে। তাদের ২৬২ রানে পিছিয়ে রাখা তিনটি উইকেটই তুলে নিয়েছেন বুমরাহ। দিন শেষে অপরাজিত পোপ ১০০ রানে, সঙ্গে রয়েছেন হ্যারি ব্রুক (০*)।
জ্যাকব বেতেলকে বসিয়ে তিন নম্বরে সুযোগ পেয়েছিলেন ওলি পোপ। তারুণ্যে ভরসা রেখেছিল ইংল্যান্ড, আর পোপও যেন বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি এই আস্থার যোগ্য। ১৫৪ বলে ১০টি চার মেরে করেন শতক। এটা ছিল ঘরের মাঠে টানা তৃতীয় টেস্টে শতক এবং ক্যারিয়ারের নবম।
বেঞ্চ ডাকেটের সঙ্গে তার ১২২ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করে। যদিও ডাকেট জীবন পেয়েও ৬২ রানে ফেরেন, সেই উইকেটও বুমরাহর। পোপ নিজেও বুমরাহর বলে একাধিকবার বিপদে পড়েন। একবার স্লিপে ধরা পড়তে পারতেন, আবার জয়সওয়ালের হাতে জীবন পান ৬০ রানে।
এদিন সকাল থেকেই ছিল বৃষ্টির হানা, ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। মেঘলা আকাশ, সুইং সহায়ক কন্ডিশন—বুমরাহ যেন সেই আবহাওয়াকেই অস্ত্রে পরিণত করেন। ইংল্যান্ডের প্রথম উইকেট জ্যাক ক্রলিকে (৪) স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এরপর দ্বিতীয় স্পেলে ফেরান ডাকেটকে। দিনের একদম শেষভাগে তুলে নেন জো রুটকে, যিনি রিভিউ নিয়ে একবার বেঁচে গেলেও পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ২৮ রানে।
চরম নাটকীয়তা দেখা যায় শেষ ওভারে, যেখানে হ্যারি ব্রুক বুমরাহর বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন, কিন্তু ওটা ছিল নো-বল!
প্রথম দিন ৩৫৯/৩ রান তুলে ভারতের পক্ষে ৫৫০ ছাড়ানো সহজ লক্ষ্য মনে হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে শুরুতেই রিশাভ পন্থের ঝড়ো শতক (১০৪) সত্ত্বেও ৪১ রানের ব্যবধানে শেষ সাত উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।
বেশ কয়েকজন ব্যাটার বাজে শটে আউট হন। শুভমান গিল ১৪৭ রানে থেমে গেলে আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি। বেন স্টোকস ও জশ টাং ৪টি করে উইকেট নেন। বিশেষ করে টাংয়ের শেষ স্পেলটি ছিল দুর্দান্ত—জাদেজা, বুমরাহ, প্রসিধকে দ্রুত ফেরান।
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া ইংল্যান্ড প্রথম দিন সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে নিজেদের ফিরে পেয়েছে ব্যাটে-বলে। যদিও ভারত এখনো স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে, বিশেষ করে বুমরাহর উপস্থিতি ও বিশাল লিড ধরে রাখা অবস্থায়।
এই ম্যাচ ধীরে ধীরে টেস্ট ক্লাসিক হয়ে ওঠার পথেই আছে। শেষ হাসি কে হাসবে, তা বলবে বাকি দিনগুলো। তবে আপাতত আলোচনার কেন্দ্রে পোপের সাহসী সেঞ্চুরি ও বুমরাহর ধ্বংসাত্মক স্পেল।
বিতর্কের বেড়াজালে ইয়ামাল, সাবেক পর্নতারকার বিস্ফোরক দাবি
আরো আগে কেন ইনিংস ঘোষণা করল না বাংলাদেশ