কেরানীগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নেই বাড়তি পদক্ষেপ

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম

গত কয়েক দিনে মশার উপদ্রব বাড়ছে। মশার কামড়ে সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গুজ¦রে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের আক্রান্তের হার অনেক বেশি। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেরানীধগঞ্জে প্রশাসনের বাড়তি কোনো উদেধ্যাগ দেখা যাচ্ছে না। এতে কেরানীগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় কেরানীগঞ্জে এডিস মশা দমনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যাবে।

ঈদুল আজহার ছুটির আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে প্রতি ১৫টি বাড়ির মধ্যে ৭-৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপটির নেতৃত্বদানকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার এ বিষয়ে বলেন, এবার এডিস মশার বংশবৃদ্ধির হার মারাত্মক। মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত যতজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে, এর সংখ্যা গতবারের চেয়ে অনেক বেশি।

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ে দেখা যায়, এখনো রাস্তার যেখানে-সেখানে পড়ে আছে কোরবানির বর্জ্য। গত কয়েক দিনে হালকা বৃষ্টি হওয়ার পর অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। অনেক এলাকার ড্রেন বন্ধ হয়ে রাস্তায় পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে যেখানে-সেখানে ময়লার ভাগাড় থাকায় এখান থেকেও তৈরি হচ্ছে এডিস মশার লার্ভা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেরানীগঞ্জে প্রতিটি এলাকায় প্রতিবছর এ সময়ে মশা নিধনের জন্য ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করা ছাড়াও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। তবে এ বছর তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পরেনি।

শুভাঢ্যার বাসিন্দা মোরসেদ আলম বলেন, এখন তীব্র গরম হওয়া সত্ত্বেও মশার ভয়ে আমরা সন্ধ্যা নামলেই দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখি। তারপরও মশার হাত থেকে রক্ষা পাই না।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিনাত ফৌজিয়া বলেন, ডেঙ্গু নিধনে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার ময়লা অপসারণের কাজ চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত