বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড় নিয়ে আজ রবিবার রাতেই বৈঠকে বসছে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে পারে। অনুমোদন মিললে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অর্থ ছাড় হয়ে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে পৌঁছাবে।
এই দুই কিস্তিতে বাংলাদেশ পেতে পারে ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে তিন কিস্তিতে আইএমএফ থেকে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে দেশটি। এবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ঋণের এই দুই কিস্তি ঝুলে ছিল, মূলত আইএমএফের কিছু শর্ত পূরণে বিলম্ব হওয়ার কারণে। তবে দুই পক্ষই আলোচনায় থেকেছে। চলতি বছরের মে মাসে তাদের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপরই আইএমএফ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ সম্পর্কিত ঋণ ছাড়ের প্রস্তাব নির্বাহী বোর্ডে তুলবে।
এদিকে, ঋণের শর্ত পূরণে বাংলাদেশ বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে, যদিও তাতে বাজারে খুব বেশি অস্থিরতা দেখা যায়নি। ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। রাজস্ব খাতে আয় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি কমানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার। ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনার কথা আইএমএফকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শর্ত থাকলেও, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কারণে আপাতত সে পথে যাচ্ছে না সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা।
আইএমএফের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করা, যার অর্থ সুদের হার বাড়িয়ে টাকার সরবরাহ সীমিত রাখা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশে নেমে এলে সুদের হারও আবার কমিয়ে আনা হবে।
২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছে ঋণ সহায়তা চায়। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি সংস্থাটি কঠিন কিছু শর্ত আরোপ করে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় হয়েছিল একই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি।
চট্টগ্রামসহ চার বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, মেঘলা থাকতে পারে ঢাকার আকাশ
তেলের বাজারে আগুন