হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ।
ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কার্যক্রমে এর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষক-কর্মচারীরা উল্লেখ করেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। অভিযোগে উল্লেখিত অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে রসিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে
ভর্তি ও অন্যান্য ফি আদায় এবং ব্যাংকে নিয়ম অনুযায়ী জমা না দেয়া, পরিচালনা পরিষদের রেজুলেশন জালিয়াতি করে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা না রেখে নগদ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, প্রশংসাপত্র ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, বিশেষ ক্লাস বাবদ আদায়কৃত অর্থের অংশ জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও ক্রয় উপকমিটি এড়িয়ে খরচের অভিযোগ, পুরাতন বই, পরীক্ষার খাতা, বেতন কার্ড ইত্যাদি বেআইনিভাবে বিক্রি করে ফান্ডে না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন না করা এবং হিসাব উপস্থাপনে স্বচ্ছতা না রাখা, নারী শিক্ষার্থী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে অশোভন মন্তব্যসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগ।
শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষক-অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্ধসঢ়;বান জানিয়েছেন।
সিনিয়র শিক্ষক মানসুরা আক্তার বলেন, আমরা যে অভিযোগগুলো করেছি, তা সম্পূর্ণ সত্য। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমি ১০ বছর ধরে এখানে কর্মরত। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারিনি। প্রধান শিক্ষক আমাদের সঙ্গে স্বৈরাচারী আচরণ করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া বিভিন্ন ফি আদায় করেন। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা অতিথিদের নিয়ে
কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
সিনিয়র শিক্ষক রাখি রানী দেব বলেন, আমি এই অভিযোগকারীদের দলে নেই। তবে আমি চাই সত্য বেরিয়ে আসুক। যারা অভিযোগ করেছেন, তারা আমার সম্মানিত সহকর্মী।
অফিস সহকারী মো. রায়হান উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে আমার নির্ধারিত কাজ করতে দেন না। প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থের আংশিক ব্যাংকে জমা দিলেও বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো সত্য। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পাবে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমি নির্দোষ, এবং তদন্তেই তা প্রমাণিত হবে।
বিদ্যালয় এড হক কমিটির সভাপতি ও মাধবপুর উপজেলার সহকারী প্রোগ্রামার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর) মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। যেহেতু জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করা হয়েছে, আমরা স্যারের নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মোবাইলে ফোন করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডঃ মোহাম্মদ ফরিদুর রহমানের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আজ একনেকে উঠছে ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার ১৫ টি প্রকল্প