রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে জমা পড়েছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। চলমান সেই মামলায় এবার ৩০ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল সূত্র।
আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ১৫ জুন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এক আদেশে তদন্ত শেষ করতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ১৪ জুলাই পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই, ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আজই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে আবু সাঈদ হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন ধাপের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী। এর বাইরে আরও অনেকের নাম তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট প্রথম মামলা। ২ মার্চ এই মামলা রুজু হয়, যদিও আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন দানা বাঁধে গত বছরের জুলাইতেই। মৃত্যুর পর রংপুরজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একসময় ঢাকাসহ সারাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
তবে প্রথম শহীদের মামলায় দীর্ঘ সময় কেন লেগে গেল—এমন প্রশ্ন ওঠে অনেকের। সে সময় প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মামলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে।
গত বছর ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার দিনটিকে সরকার ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হন বলে অভিযোগ উঠে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পরিচালিত এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এর আগে বিচারকাজের গতি, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযুক্তদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা—এসব বিষয়ই চূড়ান্ত রায়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।
আবু সাঈদের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা এখন এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যেন দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে শেষ হয়, সেই প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন ট্রাইব্যুনালের দিকে।
মেক্সিকোতে ধর্মীয় উৎসবে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১২
সাবেক ৩ সিইসির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ 