ঐক্যমত্যের অভাবে চীনের কুইংদাও শহরে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর থেকে বিরত রয়েছে ভারত। মূলত ‘সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত ইস্যুতে মতবিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে সম্মেলনের সমাপনী যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত করা যায়নি।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শানডং প্রদেশের কুইংদাও শহরে। এতে চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ইরানসহ এসসিও-র ১০টি সদস্য দেশ অংশ নেয়। বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের এই বৈঠক ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কিছু সদস্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি, তাই ভারত যৌথ বিবৃতিতে সই করেনি।”
তিনি জানান, “আমরা চেয়েছিলাম সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত যে উদ্বেগগুলো রয়েছে, তা যেন চূড়ান্ত নথিতে প্রতিফলিত হয়। কিন্তু একটি দেশ তা মেনে নেয়নি। ফলে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।”
যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পর্যটক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সম্মেলনের আলোচ্য নথি থেকে বাদ দেওয়াতেই ভারত আপত্তি তোলে। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও, ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পর ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কিছু স্থাপনায় হামলা চালায়, যেগুলোকে সন্ত্রাসী অবকাঠামো বলে উল্লেখ করে। পাকিস্তান পাল্টা দাবি করেছে, হামলায় যে স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়েছিল, সেগুলো আসলে বেসামরিক এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
