অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের বৈঠকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা বিএনপির। তবে তাদের বৈঠকের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি জানান।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপির ধারণা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ও সিইসি। বিএনপি মনে করছে নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নেওয়া সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা হয়তো তার মেসেজ সিইসিকে জানিয়েছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ধরে প্রস্তুতি নিতে। এটি আমাদের ধারণা। উভয়পক্ষ থেকে বার্তা এলে সেটি স্পষ্ট হবে।’
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে সব দলই একমত। যদি তাই হয়, তবে এই ঘোষিত সময়ের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন করা অসম্ভব। জাতীয় নির্বাচনের জন্যই এতদিনের সংগ্রাম, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য না। ইসির প্রধান কাজ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।’ এ সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।’
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দুজনের মধ্যে ‘ওয়ান টু ওয়ান (একান্ত)’ বৈঠক হয়েছে। এর ফলে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো সম্ভব নয়। তবে ধারণা করা যায় নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ জুন লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সব প্রস্তুতি শেষ করা গেলে ২০২৬ সালে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও (ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে) নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে বলে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয় পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি দল। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিইসি।
