রাজবাড়ী কৃষি বিপণন অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার রিপোর্ট পরবর্তী দৈনিক দেশ রূপান্তরের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এই ঘটনায় টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রথমত হলো এরা বহমাত্রিক অপরাধ করেছে। এরা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি যার বিরুদ্ধে সে আবার যারা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন জাতীয় কার্যাক্রম করেছেন। একদিকে অপরাধ করেছেন অপর দিকে তারা সেই অপরাধ ঢাকার জন্য যেই সকল প্রতিবেদক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তাদের নিরাপত্তার বিঘ্নতা ঘটাতে পারেন। দ্বিতীয়ত হলো যেহেতু এই বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত আলোচিত বিষয়। এর ভিডিও রেকর্ড আছে সেহেতু বিষয়টি দূর্নীতি দমন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত।
তিনি বলেন, তারা এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে এবং যারা জড়িত তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। মানবন্ধনে যে সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি জড়িত তার পেছনে বা তার সহযোগী হিসেবে কোন কোন মহল আছে এই প্রতিষ্ঠানে বা কার্যালয়ে তাদের চিহ্নিত করতে হবে ।
তিনি আরো বলেন, আমি ডিসির উপর আস্থা রেখে বলতে চাই, ডিসির কাছে যদি এ ধরণের কোন নালিশ এসে থাকে তাহলে এই বিষয়ে তার সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
জানা যায়, রাজবাড়ী কৃষি বিপণন কার্যালয়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের ঘরের জন্য আবেদন করতে আসা কৃষকদের নিকট থেকে অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নেন কৃষি বিপণন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. এনামুল হক। এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিওসহ, অনলাইন এবং প্রিণ্ট সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ সংবাদ প্রকাশ করায় দেশ রূপান্তর পত্রিকার রাজবাড়ী প্রতিনিধির বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকের ব্যানারে রাজবাড়ী কৃষি বিপণন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান রাজবাড়ী জেলায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
উল্লেখ্য, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দেয়া গণবিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মে, ২০২৫ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কয়েকটি জেলাসহ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৫ ফুট-১৫ ফুট বিশিষ্ঠ মডেল ঘর বাঁশ, কাঠ, টিন ও আরসিসি পিলার দ্বারা তৈরি ঘর নির্মাণ করা হবে। মডেল ঘর পেতে আগ্রহী পেঁয়াজ ও রসুন চাষীগণকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২ কপি ছবি ও জমির পর্চা, স্বহস্তে লিখিত আবেদন জেলা বিপণন কার্যালয়ে ১৯ জুন, ২০২৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ১৯ জুন (বৃহস্পতিবার) আবেদনপত্র জমার শেষ দিন ছিল। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় কৃষকদের কাছ থেকে অনৈতিক ভাবে প্রতিজনের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। আবেদন বাতিলের ভয়ে কৃষকেরাও টাকা জমা দিতে বাধ্য হন।
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সত্যতা যাচাই করতে দেশ রূপান্তরের রাজবাড়ী প্রতিনিধি একটি আবেদনের কপি নিয়ে জেলা বিপণন অফিসে গেলে আবেদন পত্রটি জমা দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে আবেদন ও ২০০ টাকা নেন এক কর্মচারী।
এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা এই প্রতিবেদক কার্যালয় ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে। তাদের প্রত্যেকের কাছে ২০০-৩০০ টাকা দাবি করেন অফিস সহায়ক মো. এনামুল হক।
ধারণকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক কৃষক তার আবেদনপত্রটি অফিস সহায়ক এনামুল হকের কাছে জমা দিয়েছেন। এনামুল হক আবেদন পত্রটি একটি রেজিস্ট্রি খাতায় তথ্য লিপিবদ্ধ করছেন। এসময় ওই কৃষক তার পরিধান করা পাঞ্জাবির পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে হাতের ভেতর রেখেছেন। খাতায় লিপিবদ্ধ করা শেষ হলে হাত পেতে ওই কৃষকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন অফিস সহায়ক এনামুল হক। টাকা নেওয়ার একাধিক ভিডিও রয়েছে।
জানতে চাইলে রাজবাড়ী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ জানিয়েছিলেন (বৃহস্পতিবার) বলেন, অফিসের লোকজন দিয়ে অনেকেই আবেদনপত্র লেখাচ্ছেন। এজন্য হয়তো তাদের দু’ একশো টাকা দিচ্ছে। তারপর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি কেউ এই ধরণের কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
