লিওনেল মেসি বিশ্ব মঞ্চে সম্ভাব্য তার শেষ 'আন্তর্জাতিক ম্যাচ'টি খেললেন একটি বড় হারের মধ্য দিয়ে— তবুও ম্যাজিকাল কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।
৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী, অনেকের মতে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়, ক্লাব বিশ্বকাপে নিজের পুরোনো ক্লাব পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে হেরে গেছেন ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে নেমে।
সাবেক চেলসি মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল মেসির প্রশংসা করে বললেন, "সে অসাধারণ বুদ্ধিমান, মাঠে হেঁটে বেড়ায় কিন্তু পায়ে বল আসতেই যেন গ্রহ বদলে যায়। ও যেন অন্য জগতের খেলোয়াড়।”
কিন্তু এটা কি সত্যিই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ?
মেসির ভবিষ্যৎ কী?
ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মেসির চুক্তি শেষ হবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে। এরপর কী হবে, সেটা তিনিও নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। ২০২৬ বিশ্বকাপে (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়) খেলবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
তার সতীর্থরা (নিকোলাস ওতামেন্দি ও লুইস সুয়ারেজ) অবশ্য আশাবাদী, মেসি কমপক্ষে সে পর্যন্ত খেলবেন।
তবে স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগ জানান, মেসির পরিবার মায়ামিতে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে এবং চুক্তি নবায়নের কথাও চলছে।
"এই মুহূর্তে মেসি এক ম্যাচ এক ম্যাচ করে এগোচ্ছেন। ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সময় হলে নেবেন। আপাতত ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনায় তিনি", লিখেছেন বালাগ।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয় করে মেসি অনেক সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে দুবার বিশ্বকাপ জয়ের নজির এখনো কারো নেই।
এই ম্যাচে কেমন খেললেন মেসি?
রবিবার আটলান্টায় শেষ পাঁচ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক নেয়ার সময় মনে হচ্ছিল পুরো স্টেডিয়াম চাচ্ছে মেসি গোল করুক। কিন্তু হায় বলটা গেল ডিফেন্স দেয়ালে।
জন ওবি মিকেল স্মৃতিচারণ করলেন: “যখন মেসি মেসি ছিল, ওর বিরুদ্ধে খেলা ছিল স্বপ্নের মতো। বল যেন পায়ে আটকে থাকত।”
মেসি বার্সেলোনার (৬৭২), আর্জেন্টিনার (১১২) ও ইন্টার মায়ামির (৫০) সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে ৩৮ বছর বয়সে এসে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সেরা সময় পেছনে পড়ে গেছে।
এই ১,১০৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই প্রথম মেসি সাবেক কোনো দলের বিপক্ষে খেললেন। আর সাবেক ক্লাব পিএসজি-তেই তিনি খুব একটা সফল হতে পারেননি — ৭৫ ম্যাচে ৩২ গোল করেও ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিতে পারেননি। অথচ এবার তাঁর অনুপস্থিতিতে পিএসজি সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জিতেছে।
তবুও ক্লাব বিশ্বকাপে মেসি দেখিয়েছেন, তিনি এখনও “মুহূর্তের খেলোয়াড়”। গ্রুপ পর্বে পোর্তোর বিপক্ষে তাঁর ফ্রি-কিক গোল তারই প্রমাণ।
মেসির এক ঝলক জাদু
দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে ইন্টার মায়ামি কিছুটা এগিয়ে থাকায় মেসির বল পাওয়ার সুযোগও বেশি হয়। তিনি সুয়ারেজকে দুর্দান্ত একটি পাস দেন, যেটি নিয়ে ডন হাচিসন বলেন: "এটাই এই টুর্নামেন্টের সেরা ছোঁয়া। ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে নিখুঁতভাবে বল বাড়ানো, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সুয়ারেজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।”
মেসির আরও কয়েকটি শট বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক দোন্মারুমা। তার মধ্যে ছিল বক্সে ঢুকে নেওয়া শট ও একটি হেড, যা মনে করিয়ে দেয় ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের গোলের কথা।
জন ওবি মিকেল বললেন: "দ্বিতীয়ার্ধে মেসি ম্যাচে ফিরে আসেন। ও যখন খেলায় থাকে, কিছু না কিছু করে ফেলে।”
এটাই হয়তো ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক মঞ্চে শেষবার দর্শকদের মন জয়ে নামা। যদি ইন্টার মায়ামিতেই থেকে যান, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে শুধু উত্তর আমেরিকান ক্লাব ম্যাচেই দেখা যাবে।
পরবর্তী ক্লাব বিশ্বকাপ হবে ২০২৯ সালে — তখন মেসির বয়স হবে ৪২! কী মনে হয়?
মেসিদের দুমড়ে-মুচড়ে দিল পুরনো ক্লাব পিএসজি 