দুদিন পর হিলি স্থলবন্দরে কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় কাজে ফিরেছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের কাজে যোগ দেওয়ায় কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। বন্দর দিয়ে দু’দেশের মাঝে আমদানি-রপ্তানিসহ আমদানিকৃত পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে করে স্বস্তি ফিরেছে বন্দরের আমদানিকারক, সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকদের মাঝে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় সোমবার সকাল থেকে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কাজে যোগ দিয়েছেন। এতে শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সিআ্যন্ডএফএজেন্টরা বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করছেন। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে আমদানিকৃত পণ্য লোড আনলোড ও খালাস কার্যক্রম সকাল থেকেই চলছে। স্বস্তি ফিরেছে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝেও।

এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় ভারত থেকে আমদানিকৃত আদা বোঝাই পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে বন্দর দিয়ে দু’দেশের মাঝে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে গত শনিবার ও রবিবার দুদিন কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে সরকার ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সারোয়ার হোসেন বলেন, কাস্টমসের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলার কারণে গত দুদিন ধরে কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। আমাদের যতগুলো আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে ঢুকে রয়েছে সেগুলোর বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট থেকে শুরু করে পরীক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম করতে পারিনি। গতকাল বিকালে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আজ সকাল থেকে কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। এজন্য সকালে এসে বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করলাম। এরপর কাস্টমস কর্মকর্তারা আমদানিকৃত পণ্যের পরীক্ষণ শুল্কায়ন কার্যক্রম করছেন। সেইসঙ্গে পণ্য খালাস নিতে পারছি।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, কাস্টমসের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ফলে আজ সকাল থেকেই কাস্টমসের কর্মকর্তারা কাজে যোগ দেওয়ায় সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিআ্যন্ডএফ এজেন্টরা বন্দরে আটকে থাকা পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি থেকে শুরু করছেন। গত দুদিন ধরে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক আটকা থাকায় বাড়তি মাশুল ও ব্যাংক ইন্টারেস্ট গুণতে হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত পণ্যের মান খারাপ হয়ে লোকসানের বোঝা বাড়ছিল। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত