স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বিদেশে সফরকালে অস্ত্রের ম্যাগাজিন নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশের ঘটনায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের ব্যাগে অস্ত্রের ম্যাগাজিনটি ভুলক্রমে রয়ে গিয়েছিল। এটা তার ভুল ছিল। তবে বয়স না হওয়া সত্ত্বেও তিনি কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছেন এ ব্যাপারে জানা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গত রবিবার মরক্কো যাওয়ার পথে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হাতব্যাগে অস্ত্রের ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ‘শুধু ম্যাগাজিন দিয়ে আমি কী করব’ প্রশ্ন উপদেষ্টা আসিফের। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে বলছেন তিনি (আসিফ মাহমুদ) একে-৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন। এটা একে-৪৭ নয়। এটা তারই একটি হাতিয়ার। তার একটি পিস্তলের খালি একটি ম্যাগাজিন ছিল। সেটি ভুলে রয়ে গিয়েছিল।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এটা আসলে ভুলেই হয়েছে। অনেক সময় এমন হয় যে, আপনি একটা চশমা নিয়ে যাবেন কিন্তু চশমা না নিয়ে মোবাইল নিয়ে রওনা হয়ে গেছেন। এটা জাস্ট একটা ভুল। উনি যদি আগে জানতে পারতেন, তাহলে কোনো অবস্থাতেই এটা নিতেন না।’
এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, বৈধ লাইসেন্স পেতে বয়স ৩০ বছর হওয়া লাগে। কিন্তু উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বয়স এখনো ৩০ হয়নি। তাহলে তিনি এটা কীভাবে পেলেন? জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যেহেতু ওই আইনটা দেখিনি, সেহেতু এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
এ সময় তাকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। কারণ দুই দফায় স্ক্যানিংয়ে এটি ধরা পড়েনি, তৃতীয় দফায় ধরা পড়েছে। জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ধরেন আমার ভাই একজন নেতা। উনি যখন ঢোকে তখন অন্যদের থেকে একটু প্রিভিলেজ পায়। এই প্রিভিলেজটা যেন কারও ক্ষেত্রে না হয়, সবার ক্ষেত্রে যেন আইন সমান হয়, সেটা বলে দেওয়া হয়েছে। সবাইকে সমানভাবে দেখতে বলা হয়েছে।’
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাসম্ভব দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কুমিল্লার মুরাদনগর ও পটুয়াখালীর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। তারা এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
একটি দৈনিকে অনলাইন জরিপের ফল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ জরিপে প্রশ্ন ছিল ‘দেশে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?’ এতে হ্যাঁ-সূচক মন্তব্য করেছেন ৬২ শতাংশ, না-সূচক মন্তব্য করেছেন ৩৫ শতাংশ ও মন্তব্য করেননি ৩ শতাংশ অনলাইন পাঠক। এতেই প্রতীয়মান, সাধারণ জনগণও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় কর্মসূচির সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠন এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি উদযাপন করবে। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ যাতে স্বতঃস্ফূর্ত, নিরাপদ ও নির্বিঘেœ অংশগ্রহণ করতে পারে, সে ব্যাপারে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম, র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।
