রোমাঞ্চ, ঐতিহ্য আর নতুনত্বে ট্যুর দে ফ্রাঁসের ৫০ বছর উদযাপন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১০:২৭ এএম

শুধু হলুদ জার্সিই নয়, ট্যুর দে ফ্রাঁস মানেই শঁ জেলিজের রাজপথে এক মহাকাব্যিক সমাপ্তি। বিখ্যাত এই ফ্রেঞ্চ সাইক্লিং টুর্নামেন্টের ফিনিশ লাইন ৫০ বছর পূর্ণ করল এবার। ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্যারিসের হৃদয়ে অবস্থিত এই রাজপথে, যার দু’পাশ ঘেরা উচ্চমানের দোকান আর ঐতিহাসিক কাফেতে। এরপর থেকেই এই স্থানটি হয়ে উঠেছে ট্যুর দে ফ্রাঁসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

১৯৭৪ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত গিরো দ’ইতালিয়ার অনুপ্রেরণায় টেলিভিশন উপস্থাপক ইভ মুরোসি প্রথম প্রস্তাব দেন এই রাজপথে ফিনিশ আনার। পরের বছরই তা বাস্তবায়িত হয়। সে বছর ফরাসি সাইক্লিস্ট বার্নার থেভেনে ট্যুর জিতলে তাঁকে হলুদ জার্সি পরিয়ে দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভালেরি জিসকার দ্যস্তাঁ।

লেমন্ড থেকে ক্যাভেনডিশ—রচিত হয়েছে কিংবদন্তি

এই অর্ধশতকে নানা স্মরণীয় মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে শঁ জেলিজ। ১৯৮৯ সালে গ্রেগ লেমন্ড মাত্র আট সেকেন্ডের ব্যবধানে হারিয়ে দেন লঁরা ফিনিয়ঁকে, যা ট্যুরের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় সমাপ্তি। দুই বছর আগে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই আমেরিকানের সেই কামব্যাক আজও এক প্রেরণার গল্প।

অন্যদিকে, মার্ক ক্যাভেনডিশ এই রাজপথে চারবার জয়ী হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেরা স্প্রিন্টার হিসেবে। ২০১২ সালে ব্র্যাডলি উইগিন্সের নেতৃত্বে তার শেষ জয় ব্রিটিশদের কাছে হয়ে আছে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।

শুরুর দিনে হয় ‘প্রমেনাদ’, তবে ব্যতিক্রমও আছে

ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, ট্যুরের শেষ দিনটি সাধারণত আনুষ্ঠানিকতা ও স্প্রিন্টারদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। ২০০৫ সালে আলেক্সান্দার ভিনোকুরভের নাটকীয় ব্রেকঅ্যাওয়ে কিংবা ১৯৯১ সালে ইনদুরেইনের ওপর লেমন্ডের আক্রমণ সেই ব্যতিক্রমী অধ্যায়। এমনকি ১৯৯১ সালেই ঘটে ভয়ানক দুর্ঘটনা, যখন উজবেক সাইক্লিস্ট আব্দুজাপারভ বিজ্ঞাপন বোর্ডে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়েন। তবুও অচেতন অবস্থায় তাকে ফিনিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০২৫-এর নতুনত্ব—মঁমার্তের পথে তিন ল্যাপ

৫০ বছর পূর্তির এই বছরে ট্যুর দে ফ্রাঁসের আয়োজকরা চমক দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী শঁ জেলিজের পাশাপাশি এবার রেসাররা তিনবার উঠবেন প্যারিসের বিখ্যাত বাট্‌ দ্যু মঁমার্তে। ফলে যারা এখনও জেনারেল ক্লাসিফিকেশন তালিকায় ওপরে উঠে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে শেষ সুযোগ।

স্মরণীয় পাঁচ মুহূর্ত

বার্নার হিনো, ১৯৭৯: হলুদ জার্সিতে জেতেন ফিনিশে, একমাত্র রাইডার যিনি এমন কীর্তি গড়েছেন।

গ্রেগ লেমন্ড, ১৯৮৯: টাইম ট্রায়ালে ৫০ সেকেন্ড পুষিয়ে ৮ সেকেন্ডের জয়—সবচেয়ে নাটকীয় ফিনিশ।

মার্ক ক্যাভেনডিশ, ২০১২: ব্রিটেনের উইগিন্সের লিড-আউটে জেতেন রেইনবো জার্সিতে।

এডি স্যিন্যর, ১৯৯৪: বিরল ব্রেকঅ্যাওয়ে জিতে ফ্রান্সকে উপহার দেন বিজয়।

হিনো, ১৯৮২: ট্যুরের মাঝে ‘পাগলামি’ করে ব্যাচ স্প্রিন্টে জয়ী হন।

ট্যুর দে ফ্রাঁস আর শঁ জেলিজ—এই দুইয়ের সম্পর্ক যেন হৃদয় আর ধমনী। অর্ধশতকের এই যাত্রা শুধু সাইক্লিং ইতিহাস নয়, ফ্রান্সের ক্রীড়া সংস্কৃতিরও গর্ব। এবারের নতুন লে-আউট আরও একবার প্রমাণ করল—ঐতিহ্যের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় উদ্ভাবন, তবে সেই ফিনিশ হয়ে ওঠে কিংবদন্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত