এক সময়ের বিশ্বজয়ী দল শ্রীলঙ্কা যখন ২০২৫ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও খেলতে পারেনি, তখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বর অবস্থান থেকে শুরু করে তিনি দলকে পৌঁছে দিয়েছেন চতুর্থ স্থানে। হারিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে, নিজেও উঠে এসেছেন আইসিসির ব্যাটসম্যান র্যাংকিংয়ের আট নম্বরে। এখন সেই একই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশ বর্তমানে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ১০ নম্বরে। কলম্বোতে আজ শুরু হওয়া সিরিজে একটি ম্যাচ জিতলেই উঠবে ৯ নম্বরে, আর শ্রীলঙ্কা নেমে যাবে পঞ্চমে। তবে সিরিজ জয় কিংবা হোয়াইটওয়াশ—কোনোটাতেই র্যাংকিংয়ে অবস্থান বদলাবে না, শুধু বাড়বে বা কমবে রেটিং পয়েন্ট। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলেও বাড়বে মাত্র ১ রেটিং পয়েন্ট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে আপৎকালীন নেতৃত্বে থাকা মিরাজ এবার পেয়েছেন পূর্ণ এক বছরের দায়িত্ব। সামনে আছে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ। যদিও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে আছে শঙ্কা। এই সময়ের মধ্যেই র্যাংকিংয়ে উন্নতির চ্যালেঞ্জ নিতে হবে মিরাজকে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর ওয়ানডে থেকে বিদায় নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। সেই শূন্যতা পূরণ এবং নিজের ব্যাটিং পজিশন নির্ধারণ—দুটিই মিরাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কখনো ওপেনার, কখনো ৮-৯ নম্বরে ব্যাট করা মিরাজ এখন নিজের জায়গা ঠিক করতে চাইছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চার নম্বরে ব্যাট করে রেখেছেন ইঙ্গিত।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখনো ব্যাটিং। আধুনিক ওয়ানডেতে যেখানে তিনশ রানও অনিরাপদ, সেখানে বাংলাদেশ খাবি খায় আড়াইশ ছুঁতেও। টপ অর্ডার ব্যর্থ, ফর্মে নেই লিটন দাস, তবু দলে। দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন নাঈম শেখ, কিন্তু তার সাম্প্রতিক ঘরোয়া পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্দেহ। পারভেজ ইমনের অভিষেক হয়নি, তামিম কিছুটা ছন্দে থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারছেন না। হৃদয়ের ধারাবাহিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ, শাস্তিকা-গুঞ্জনের পর যেন ব্যাটিংয়েও এলোমেলো। জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারী—সবাই সুযোগ পেলেও পারফরম্যান্সে বড় অবদান রাখতে পারেননি।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৩ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। তাও ভারতের বিপক্ষে এক অর্থহীন ম্যাচে। এই মাঠে ৩৫০ ছাড়ানো ইনিংস আছে একাধিক। তাই এখানে জিততে হলে চাই শক্তিশালী বোলিং ইউনিট। তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ রানা—এই তিন পেসারই এখন আশার আলো।
চারিথ আসালাঙ্কা যেভাবে শ্রীলঙ্কাকে উঁচুতে তুলেছেন, মেহেদী হাসান মিরাজকেও নিতে হবে সেই দায়িত্ব। ব্যাটে-বলে নেতৃত্ব, সঙ্গে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগানো—সব মিলিয়ে কঠিন এক পথচলা শুরু হলো তার। র্যাংকিংয়ের ১০ থেকে ৮-এ উঠতে না পারলে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়াটাই হয়ে যাবে কঠিন সমীকরণ।
কারা খেলবে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল
নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই মিরাজ-শান্তর