রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে ভারতের ওপর ৫০০% শুল্ক বসাতে পারেন ট্রাম্প

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১১:১৪ এএম

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখায় বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যারা রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে একটি বিল অনুমোদন পেয়েছে, যেখানে ভারত ও চীনের মতো রাশিয়া সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যচালু দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। সিনেটের ৮৪ জন সদস্য বিলটিকে সমর্থন দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, এটি আগামী মাসে সিনেটে উপস্থাপন করা হবে।

এই বিল চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ভারতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি রাশিয়া থেকে পণ্য কিনে থাকেন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা না করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আপনার পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এখনই আপনার বিলটি পেশ করার সময়।’

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে গ্রাহামকে পরামর্শ দিয়েছিল প্রস্তাবনায় ‘হবে’ এর পরিবর্তে ‘হতে পারে’ শব্দ ব্যবহার করতে, যাতে আইনের বাধ্যতামূলক প্রয়োগ কিছুটা নমনীয় রাখা যায়।

এই প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারত ও চীনের ওপর। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ভারত একাই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে—যা রাশিয়ার যুদ্ধ-অর্থনীতিকে জ্বালানি জোগাচ্ছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা মহামারিকালের আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ২০১৯ সালে যা ছিল মাত্র ১০.১ বিলিয়ন ডলার।

এই বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এবং ভারতের রপ্তানির বিস্তার।

এই ধারাবাহিকতায় ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত