ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি অঘোষিত ময়লার ভাগাড়। আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ফেলছে এসব ময়লা। পাশাপাশি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষকেও ময়লা ফেলতে দেখা গেছে। দিনের পর দিন ময়লা ফেলায় মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠছে আবর্জনার স্তূপ, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার হাড়াতলী এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে দেখা গেছে এমন চিত্র। দূর থেকে নাক চেপে ধরতে হচ্ছে দুর্গন্ধের জন্য। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুবছর আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন সেখানে ময়লা ফেলা শুরু করে। ধীরে ধীরে তা বড় ভাগাড়ে রূপ নেয়।
হাড়াতলী এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, ‘ময়লা ফেলতে আমরা বারবার বাধা দিয়েছি, কোনো লাভ হয়নি। এখনো প্রতিদিন ময়লা বাড়ছে। সিটি করপোরেশন বলে, তারা এখন আর ফেলছে না। ব্যবসায়ীরাও একই কথা বলছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, ময়লা ফেলছে কারা?’
তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে থাকা এই এলাকার শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাও ভুগছেন চরম ভোগান্তিতে। স্থানীয় এক শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে বসা যায় না দুর্গন্ধে। কলেজে ঢুকতে নাক চেপে ধরতে হয়।’
এই অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমরা সেখানে ময়লা ফেলছি না। ভেকু দিয়ে আগের ময়লা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন রাতের আঁধারে আশপাশের লোকজন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ময়লা ফেলছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে অন্তত ২০টি স্থানে রয়েছে এমন অঘোষিত ভাগাড়। চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, বুড়িচং, দাউদকান্দি, গৌরীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় মহাসড়কের দুপাশেই দেখা গেছে আবর্জনার স্তূপ। চৌদ্দগ্রামের বালুজুরি এলাকায় প্রায় ৪০০ মিটার জুড়ে ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ বলেন, ‘দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে পৌরসভা ময়লা ফেলছে। মাঝেমধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, এতে বাড়ে বায়ুদূষণ।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক জামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু না পাওয়ায় আপাতত সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ তো ট্যাক্স দেয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের কাজ কী? এভাবে ময়লা ফেলা অপরাধ। প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এ ব্যাপারে তাদের আরও কঠোর হতে হবে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা বাজার কমিটি ও পৌরসভাগুলোকে চিঠি দিয়ে ময়লা না ফেলার অনুরোধ করেছি। এরপরও তারা থামছে না। ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া এ অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
