জামালপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক ছাড়াই নার্স দিয়ে সন্তান প্রসবের চেষ্টার পর মৃত নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিশুর স্বজনদের দাবি ডাক্তার না থাকায় নার্স বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রসূতি নরিন জান্নাত (২১) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ‘বিক্ষুব্ধ’ জনতা হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে দুইজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (০৫ জুলাই) ভোরের দিকে জামালপুর পৌর শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার নগর মাতৃসদন হাসপাতালে ওই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সকাল ৮ টার দিকে নবজাতকের স্বজন ও উত্তেজিত জনতা হাসপালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে প্রসব ব্যাথা নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রয়ণ করতে নার্স শিরিন আক্তার ও আয়া বন্যা আক্তার (৩৪) নামে দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রসূতি নরিন জান্নাত পৌর শহরের বেলটিয়া এলাকার মোকাদ্দেস হোসেনের মেয়ে ও মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী। তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোগীর স্বজনরা জানান, গতকাল শুক্রবার (০৪ জুলাই) নরিনের প্রসব ব্যাথা উঠে। পরে তাকে নগর মাতৃসদন হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে ভর্তি করে নেয়। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। ফলে মায়ের গর্ভে বাচ্চার অবস্থান দেখার কোনো উপায় ছিল না। গভীর রাতে প্রসূতির প্রচন্ড ব্যাথা উঠে। সে সময় হাসপাতালে কোনো ডাক্তার ছিল না।
ভোরের দিকে নার্স কোনো এক ডাক্তারের সাথে কথা বলে রোগীর রিপোর্টগুলো ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে দেন। পরে নার্স নিজেই সন্তান প্রসবের চেষ্টা করেন। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর মৃত সন্তান ভূমিষ্ট হয়। নার্সের ভুলের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
নগর মাতৃসদন হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের টেকনোলজিস্ট রহিমা বেগম জানায়, সেই সময় কোনো ডাক্তার ছিল না। নার্স প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মৃত নবজাতক ভূমিষ্ট হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ আসলে ওই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীদের বের করে দেয়। এ সময় রোগীর ৫০-৬০জন স্বজন হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। আর পুলিশ নার্স শিরিন ও আয়া বন্যাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কথা বলতে হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে হাসপাতালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মফিজ উদ্দিন শেখের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন চিকিৎসক মো. আজিজুল হক বলেন, নগর মাতৃসদন হাসপাতালটি পৌরসভার আওতাধীন। এটা পৌরসভার প্রকল্পেই পরিচালিত হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পৌরসভার দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তাকে সাথে নিয়ে ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নবজাতকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে হেফাজতে নিয়েছেন। আর ওই প্রসূতি নারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আর এ ধরনের ঘটনায় যেই অপরাধী হোক না কেনো তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ও নিরাপত্তার কথা ভেবে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
